সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থপাচার - এই দুই বিষয় আটকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৯ সালেই পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করেছিল ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এএফএটিএফ। তা থেকে বের হতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইমরান খানের দেশ। কিন্তু, তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিতে চলেছে ভারত। এবার পুলওয়ামার ঘটনায় পাকিস্তান থেকে কীভাবে অর্থায়ন করা হয়েছিল, তার যাবতীয় প্রমাণ এফএটিএফ-এর হাতে তুলে দিতে চলেছে ভারত। এতে করে ধূসর তালিকা থেকে বের হওয়া তো দূর, একেবারে কালো তালিকাভুক্ত হয়ে যেতে পারে পাকিস্তান।

এনআইএ সম্প্রতি পুলওয়ামা কাণ্ডের যে চার্জশিট পেশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে পুলওয়ামা হামলার সময় এফএটিএফ-কে ধোকা দেওয়ার চিন্তাও ছিল চক্রীদের মাথায়। যেই কারণে মোট পাঁচটি কিস্তিতে পুলওয়ামার মূল আসামি মহম্মদ উমর ফারুক-এর দুটি পাকিস্তানি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ১০.৪৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিল জইশ-ই-মহম্মদ। যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যয় করা হয়েছিল।

এই সংক্রান্ত ব্যাঙ্কের বিশদ এবং জইশ নেতাদের সঙ্গে ফারুকের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মতো নথি রয়েথে এনআইএ-র কাছে। সেই সব নিয়েই পুলওয়ামা কাণ্ডে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থপাচারের যোগসূত্রের সুস্পষ্ট প্রমাণ এফএটিএফ-এর হাতে তুলে দিতে চলেছে ভারত, বলে জানা গিয়েছে।

এফএটিএফ পাকিস্তানকে ধূসর তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য ২৭ দফা পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। সম্প্রতি ইসলামাবাদ দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহার-সহ মোট ৮৮ জন সন্ত্রাসবাদী দল ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারা কতটা কী করল, তা পর্যালোচনা করা হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, তারপর অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এফএটিএফ। তবে এরমধ্যেই পুলওয়ামা সন্ত্রাসবাদী হামলার আর্থিক বিবরণ জমা দিতে চাইছে ভারত। পাকিস্তান যে তার মাটি থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসের অর্থায়ন আটকানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ, তা তুলে ধরা হবে। সেইক্ষেত্রে পাকিস্তানের 'কালো তালিকাভুক্ত' হওয়ার সম্ভাবনাই জোরদার হবে।

এমনিতেই সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে উদ্ভূত ঝামেলার কারণে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সমর্থন পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে পাকিস্তান। এরপর এফএটিএফ তাদের কালো তালিকাভুক্ত করলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও অনেক বিধি নিষেধ চাপবে পাকিস্তানের উপর। কাজেই ভারতের এই পদক্ষেপে পাকিস্তানের মুখ কালা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।