নিজের থাকার জন্য আস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট বুক করে নিয়েছিলেন। যার মাসিক ভাড়াই ভারতীয় মুদ্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। অথচ এই বিপুল খরচের জন্য সরকারের থেকে কোনও অনুমতিই নেননি অস্ট্রিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রেণু পাল। বিষয়টি জানতে পেরেই তড়িঘড়়ি ওই কূটনীতিককে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি। 

সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, ১৯৮৮ ব্যাচের ফরেন সার্ভিস অফিসার রেণু পালের আগামী মাস পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আসছিল বিদেশ মন্ত্রকের কাছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশন ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি টাকা হিসেব বহির্ভূতভাবে খরচ করেছেন রেণু। 

ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বিপুল ব্যয়ে বাড়ি ভাড়া করে থাকার পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অস্ট্রিয়ায় কর্মরত অবস্থাতেই তিনি ভুয়ো ভ্যাট রিফান্ড দাবি করার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। 

এই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করতে বিদেশ মন্ত্রকের প্রধান দুর্নীতি দমন অফিসারের নেতৃত্বে একটি দল গত সেপ্টেম্বর মাসে ভিয়েনায় যায়। তদন্ত শেষ করে কেন্দ্রীয় ভিজিলেন্স কমিশন-কে রিপোর্ট জমা দেয় ওই দলটি। তাতেই ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে সত্যি বলেই জানানো হয়। রিপোর্টে স্বীকার করা হয়, রেণু পালের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি অর্থের নয়ছয় করা এবং কর্তব্যে বিচ্যুতির মতো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।