এমনিতে তাঁরা দেশকে বহির্শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু, করোনা-যুদ্ধে তাঁদের লড়ার উপায় জানা নেই। তাই বলে বসে নেই ভারতীয় নৌসেনা। বিনা চিন্তায় যাতে তেড়েফুড়ে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারেন, ডাক্তার নার্সরা, তার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর একেবারে নিজস্ব পদ্ধতিতে পিপিই কিটস অর্থাৎ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নকশা ও তৈরি করল।

শুধু তাই নয়, ডিআরডিও-র শাখা সংস্থা, দিল্লির ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যালাইড সায়েন্সেস এই পিপিইর পরীক্ষা করে দেখেছে এটা অত্যন্ত কার্যকর এবং ইতিমধ্যেই এই পিপিই গণহারে তৈরির জন্য শংসাপত্রও দিয়ে দিয়েছে তার। ফলে নৌসেনার নকশা করা পিপিই এখন গণহারে উফপাদন করা হবে এবং বিভিন্ন কোভিড হাসপাতাল ও ওয়ার্ডে ব্যবহৃত হবে।

কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্বেই পিপিই কিটের অভাব গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পিপিই-র অভাবে গোটা বিশ্বেই ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্বে এবং ভারতেও কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন করোনা-যুদ্ধে একেবারে সামনের সারিতে থাকা এই যোদ্ধারা। পিপিই-র অভাবে যে নিরাপত্তাহীনতা তা তাঁদের মনোবল-ও ভেঙে দিচ্ছে। কাজে অনীহা তৈরি হচ্ছে।

পিপিই তৈরি করা অবশ্য সহজ কথা নয়। কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এই পিপিই তৈরির বরাত পাওয়ার জন্য। এই মানদণ্ড নির্ধারিত করে আইসিএমআর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। জানা গিয়েছে মুম্বইয়ের ইনস্টিটিউট অফ নাভাল মেডিসিন-এর ইনোভেশন সেল, এবং মুম্বাইয়ের নাভাল ডকইয়ার্ড-এর কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই পিপিই কিটস নকশা ও তৈরিতে সহযোগিতা করেছে।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এদিন এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, কৃত্রিম রক্ত ​​অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের চাপের পরীক্ষায় ৬ এ ৬ নম্বর পেয়ে তাদের এই পিপিই পাস করেছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পিপিই-র ন্যূনতম মান ৬ এ ৩ হতে হয়। তাই এটি এখন গণহারে উৎপাদন করা হবে এবং কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। শুধু তাই নয় নৌসেনার দাবি, বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ পিপিইগুলির তুলনায় তাদের তৈরি পিপিই তৈরির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।