হলদিয়া হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত, কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে, বঙ্গোপসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে। ঘাঁটির নামকরণ এখনও করা হয়নি। এটি একটি বৃহৎ কমান্ড নয়, বরং একটি ছোট ঘাঁটি হবে।
ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় (Haldia) একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করছে। এই ঘাঁটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। ক্রমবর্ধমান চিনা নৌবাহিনীর কার্যকলাপ, বাংলাদেশ থেকে সামুদ্রিক অনুপ্রবেশ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে, এতে কী থাকবে, কোন জাহাজ মোতায়েন করা হবে এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব কী।
হলদিয়া ঘাঁটির পরিকল্পনা কী?
হলদিয়া হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত, কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে, বঙ্গোপসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে। ঘাঁটির নামকরণ এখনও করা হয়নি। এটি একটি বৃহৎ কমান্ড নয়, বরং একটি ছোট ঘাঁটি হবে। এতে প্রায় ১০০ জন অফিসার এবং নাবিক থাকবেন। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স (১৯৭০ সাল থেকে চালু) ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে, একটি জেটি এবং অন্য় পরিকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হবে। এর ফলে ঘাঁটি দ্রুত প্রস্তুত হবে এবং খুব বেশি নতুন অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন হবে না। হুগলি নদী থেকে কলকাতা পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রা এড়ানো যাবে। ঘাঁটি থাকলে আরও দ্রুত বঙ্গোপসাগরে পৌঁছতে পারা যাবে।
কোন জাহাজ মোতায়েন করা হবে?
ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (FICs): এগুলি ছোট, ফাস্ট জাহাজ (৪৫ নট পর্যন্ত) যা মেশিনগান দিয়ে সজ্জিত। এগুলি প্রায় ১০০ টন ওজনের এবং ১০-১২ জন লোক থাকতে পারেন।
নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (NWJFACs): এগুলি ৩০০ টনের জাহাজ, ৪০-৪৫ নট গতিতে চলে। এগুলি CRN-91 বন্দুক দিয়ে সজ্জিত হবে এবং নাগাস্ত্রের মতো লইটারিং গোলাবারুদ (ড্রোনের মতো স্মার্ট মিসাইল)ও মোতায়েন করা হতে পারে। এগুলি নজরদারি, আক্রমণ এবং নির্ভুল আঘাতের জন্য রাখা হবে।
কেন এই ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে?
এর মূল কারণ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিমধ্যেই পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনম (পূর্ব নৌ কমান্ড) এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রধান ঘাঁটি রয়েছে। তবে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তিশালী উপস্থিতির প্রয়োজন। পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (PLAN) ভারত মহাসাগরে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। বঙ্গোপসাগরে চিনা জাহাজের উপর নজরদারি অপরিহার্য। এছাড়াও, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জলপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ বাড়ছে। দ্রুতগামী জাহাজগুলি অগভীর জলে এবং ভারী সামুদ্রিক যানবাহনে খুবই কার্যকর। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশকে সাবমেরিন দিচ্ছে চিন। তাই ভারতের পূর্ব অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য এই ঘাঁটি অপরিহার্য।
হলদিয়ার এই ঘাঁটি থেকে মালাক্কা প্রণালীর উপর নজরদারি সহজ হবে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটি বঙ্গোপসাগরে ভারতকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা দেবে। এটি অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, জলদস্যু মোকাবিলা এবং দুর্যোগে ত্রাণ সরবরাহে সহায়তা করবে। হলদিয়া ঘাঁটি আসলে পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ছোট কিন্তু দ্রুতগামী জাহাজের মাধ্যমে এই ঘাঁটি অনুপ্রবেশ রোধ, নজরদারি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

