ইংরেজ শাসকের আমলে প্রবর্তিত ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন আসছে। এবার নাবালিকা ধর্ষণ থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানি প্রমাণিত হলেও অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

দেশের ফৌজদারি আইন সংশোধনের জন্য লোকসভায় আজ ৩টি বিল পেশ করেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ব্রিটিশ জমানার ভারতীয় দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন বাতিল এবং প্রতিস্থাপন করার কথা ঘোষণা করেছেন। অমিত শাহ বলেছেন যে, বিলে বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ আইন ‘সম্পূর্ণ বাতিল’ করার বিধান রয়েছে এবং অপরাধের গুরুত্বের উপর নির্ভর করে, মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে, সেটা শ্লীলতাহানির বিষয় হয়ে থাকলেও এমন গুরুতর শাস্তি দেওয়া হতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিনি বলেন, “যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একটি দল জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায়, লিঙ্গ, জন্মস্থান, ভাষা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অন্য কোনও কারণে কোনও মানুষকে হত্যা করে, তখন এই দলের প্রত্যেক সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড বা শাস্তি দেওয়া হবে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা একটি মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড (যা সাত বছরের কম হবে না, এবং জরিমানাও দায়বদ্ধ হবে)।”

নির্বাচনে ভোটারদের ঘুষ দিলে এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবিত শাস্তির মধ্যে রয়েছে গণধর্ষণের জন্য ২০ বছরের জেল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নাবালিকাকে ধর্ষণের জন্য একেবারে মৃত্যুদণ্ড।

অনুসন্ধান, এবং চালান প্রক্রিয়া ভিডিও প্রমাণ থাকলে যে কোনও জায়গা থেকে ই-এফআইআর দায়ের করা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যারা পলাতক তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার করা যেতে পারে, ৯০ দিনের মধ্যে এফআইআর আপডেট করা বাধ্যতামূলক। বিলগুলো সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

আজ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৬ আগস্ট থেকে, ৭৫ থেকে ১০০ বছরের স্বাধীনতার পথ চলা শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী দাসত্বের মানসিকতার অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমরা আইপিসি (1857), সিআরপিসি (1858), ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট (1872) শেষ করব যেগুলো ব্রিটিশদের তৈরি ছিল। অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা তাদের জায়গায় তিনটি নতুন আইন আনব। এর লক্ষ্য হবে শাস্তি নয় ন্যায়বিচার দেওয়া।” তাঁর বক্তব্য, “মানুষ আদালতে যেতে ভয় পায়, তারা মনে করে আদালতে যাওয়া নিজেই একটি শাস্তি।”

আরও দুটি বিল - ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, যা ফৌজদারি কার্যবিধির প্রতিস্থাপন করবে এবং ভারতীয় সাক্ষ্য, যা ভারতীয় সাক্ষ্য আইনকে প্রতিস্থাপন করবে - এগুলুও পেশ করা হয়েছে।