চিনকে নজরে রেখে  উত্তর-পূর্ব ভারতে সামরিক পরিকাঠামো আরও মজবুত করল ভারত। ধোলা-শদিয়া, বগিবিলের পর এবার অরুণাচল প্রদেশে চিন সীমান্তে একটি নয়া ব্রিজ তৈরি করেছে সরকার।   চিন সীমান্তে যাতায়াতের পথ সুগম করতে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গত চার বছরে একাধিক সেতু তৈরি করেছে ভারত সরকার। নানা রাস্তার সংস্কার, সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনেক রাস্তা চওড়া করে সীমান্ত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেরকমই আরেকটি বড় পদক্ষেপ করল সরকার। অরুণাচল প্রদেশে সুবনসিরি নদীর উপর দাপোরিজো ব্রিজের উদ্বোধন করা হল। এক মাসেরও কম সময়ে এই সেতু তৈরি হয়েছে। লকডাউন চলার সময়েও জরুরিভিত্তিতে কাজ করেছেন বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের কর্মী ও অফিসাররা। শতাধিক শ্রমিক এই নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছেন। দুটি গাড়ি পাশাপাশি পার হতে পারবে এই সেতুতে। অনেক নিচে রয়েছে খরস্রোতা নদী। মূলত যাতায়াতের সুবিধা ছাড়াও চিন সীমান্তে দ্রুত লক্ষাধিক সৈন্য এবং সাঁজোয়া গাড়ি এই সেতু দিয়ে পারাপার করানো যাবে। তবে ভারী ট্যাঙ্ক পার হতে সময় লাগবে। কারণ সেতুটি একসঙ্গে ৪০ টনের বেশি ওজন বহন করতে পারবে না। আগে বগিবিল সেতু, ধোলা শদিয়া সেতু, সিসেরি সেতু-সহ একাধিক সুবিশাল সেতু অসম ও অরুণাচলে নির্মাণ করেছে বিআরও।

অসমে ধোলা-শদিয়া সেতুর পর দেশের দীর্ঘতম ও এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম ব্রিজ বগিবিল। ৪.৯৪ কিলোমিটারের এই ব্রিজ নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫,৯০০ কোটি টাকা। এর ফলে অসমের ডিব্রুগড় থেকে অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরের মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই কমেছে। ফলে চিন সীমান্তে অনেক কম সময়য়েই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে পারবে ভারত। উল্লেখ্য, বহুদিন ধরেই অরুণাচলের উপর দাবি জানিয়ে এসেছে বেজিং। সম্প্রতি তিব্বতে প্রচুর সেনা, বোমারু বিমান ও ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে লালফৌজ। তবে ১৯৬২-র যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়েছে ভারত। তাই অরুণাচলে সামরিক পরিকাঠামো মজবুত করতে মহাবাহু ব্রহ্মপুত্রের উপর পরপর দু’টি ব্রিজ তৈরি করে ফেলেছে দিল্লি।

 

 

বগিবিল সেতুটি এই ধরনের ভারি সামরিক যানের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। ফলে আদেশ পাওয়া মাত্র তিনসুকিয়া সেনাঘাঁটি থেকে লালফৌজের সঙ্গে টক্কর দিতে রওনা দেবে স্থলসেনার ঘাতক ট্যাঙ্কবাহিনী। একই সঙ্গে ওই সেতুটিতে নামতে পারবে বা উড়ান ভরতে পারবে বায়ুসেনার অত্যাধুনিক , রাফাল, সুখোই, মিগ-২৯ ও জাগুয়ারের মতো যুদ্ধবিমানগুলি।

এদিকে ভারত-চিন সীমান্তে চলা উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত সড়ক সংস্থা  আরেকটি রাস্তা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। এই সড়কটিকে নিম্মু-পদম-দরচা রোড হিসেবেও জানা যায়। এই সড়ক রণনৈতিক দিক থেকে ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই রাস্তা শত্রু দেশেগুলোর নজর থেকে ভারতের সামরিক বাহন গুলোকে দূরে রাখবে। আর দুটি রাস্তা শ্রীনগর-কারগিল-লেহ রোড আর মানালি সরচু-লেহ রড আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশে থাকায় শত্রু দেশ গুলো ওই রাস্তা গুলোতে নজরদারি চালাতে সক্ষম হয়।

এই নতুন রাস্তার ফলে অনেক সময়ও সাশ্রয় হবে, কারন পুরনো রাস্তা দিয়ে মানালি থেকে লেহ পৌঁছানর জন্য ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লাগত, কিন্তু নতুন এই রাস্তার ফলে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অন্য রাস্তা গুলোর তুলনায় এই রাস্তা প্রায় সারা বছরই খোলা থাকবে। অন্য রাস্তা দুটি বছরের মাত্র ৬-৭ মাসই খোলা থাকে।

 

 

বিআরও-এর ইঞ্জিনিয়াররা জানান, এই রাস্তা এখন যানবাহন চলাচলের যোগ্য এবং কয়েকটন মাল বহনেরও যোগ্য। ১৬ বিআরটিএফ এর কম্যান্ডার এমকে জৈন বলেন, ‘এই রাস্তা ৩০ কিমি বাদে সম্পূর্নই তৈরি হয়ে গেছে। এবার সেনা এই সড়কের ব্যবহার করতে পারে। শত্রু পক্ষের নজর এড়িয়ে এই সড়কের মাধ্যমে সেনা সামরিক গতিবিধি চালাতে সক্ষম হবে।'

এমকে জৈন আরও বলেন, ‘এই রাস্তা অন্য রাস্তা দুটির তুলনায় কম উচ্চতায় বানানোর ফলে বছরে ১০ থেকে ১১ মাস যানবাহন চলাচলের জন্য সক্ষম হবে। এই রাস্তা মোট ২৫৮ কিমি দীর্ঘ।  সড়কের বাকি ৩০ কিমি অংশও খুব তাড়াতাড়ি তৈরি করা হবে।”

"

 

বন্দিশ ব্যান্ডিটের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নায়ক ও নায়িকা ঋত্বিক ভৌকিম ও শ্রেয়া চোধুরী, দেখুন ভিডিও।