ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তাদের ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতীয়দের ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করল তারা। জানিয়ে দিল, হরমুজ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। হরমুজ প্রণালী হল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য পথ, যা গত ইরানের উপরে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর পর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে তাদের ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতীয়দের ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করল তারা। জানিয়ে দিল, হরমুজ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। হরমুজ প্রণালী হল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য পথ, যা গত ইরানের উপরে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর পর থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার 'এক্স' (X) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস বলেছে, "আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা নিরাপদ হাতেই আছে। চিন্তার কোনও কারণ নেই।"

দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাসের তরফে এদিন সোশ্য়াল মিডিয়ায় লেখা হয়, "শুধুমাত্র ইরান এবং ওমানই হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। আপনারা নিরাপদ হাতেই রয়েছেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই।" ওই পোস্টটি আবার রিশেয়ার করে নিয়েছে ভারতে ইরানের দূতাবাস। তাদের বক্তব্য, ‘আমাদের ভারতীয় বন্ধুরাও নিরাপদ হাতেই রয়েছেন। চিন্তার কারণ নেই কোনও’।

Scroll to load tweet…

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে। এই নৌপথ দিয়েই বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়ে থাকে। গত মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান খুব কম সংখ্যক জাহাজকেই এই প্রণালী অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে যে তারা ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তান-সহ বেশ কিছু বন্ধু রাষ্ট্রের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। এই অবরোধের ফলে ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ৮টি ভারতীয় জাহাজ

এখনও পর্যন্ত অন্তত আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে এসেছে। এর মধ্যে দুটি এলপিজি (LPG) বহনকারী জাহাজ—'বিডব্লিউ টায়ার' (BW TYR) এবং 'বিডব্লিউ এলম' (BW ELM)—রয়েছে, যেগুলোতে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯৪,০০০ টন এলপিজি পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। ভারতের উদ্দেশ্যে এলপিজি, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি (LNG) বহনকারী মোট ১৯টি জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়ে আছে।

গত ৩০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রভাব নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, ভারতের জন্য জ্বালানি পণ্য বহনকারী ১০টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ বর্তমানে আটকে পড়ে আছে। এর মধ্যে এলপিজি বহনকারী ৩টি জাহাজ, ৪টি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার এবং ৩টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী জাহাজ রয়েছে। এসব ছাড়াও, সেখানে ভারতীয় পতাকাবাহী বেশ কিছু জাহাজও রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ১টি এলএনজি বহনকারী জাহাজ এবং ৪টি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, একটি খালি ট্যাঙ্কারে বর্তমানে এলপিজি বোঝাই করার কাজ চলছে। সংঘাতের আবহে এই সংকীর্ণ প্রণালীতে আটকে পড়া প্রায় ৫০০টি জাহাজের মধ্যেই উল্লিখিত জাহাজগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।