সারা ভারতে সোমবার পালন করা হচ্ছে রক্ষা বন্ধন উত্সব বা রাখি। ভাই-বোনের ভালবাসা এবং যেকোনো অশুভ থেকে রক্ষা করাই এই উৎসবের উদ্দেশ্য। তবে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার দুমারিয়াদি-র ভীখামপুর জগৎ পূর্ব গ্রামের কেউ রাখি উৎসব পালন করেন না। এমনকি এই গ্রামে রাখি উত্সবের নাম উচ্চারণ করাও বারণ। কারণ রক্ষা বন্ধন উদযাপিত হলে কিংবা সেই উৎসবের নাম করলেও গ্রামের উপর অশুভ শক্তির প্রকোপ নেমে আসতে পারে বলে বিশ্বাস করেন গ্রামবাসীরা।

জগৎ পূর্ব গ্রামে মোট ২০টি বাড়ি রয়েছে। সেখানকার প্রায় ২০০ শিশু, বড়রাও  রাখি দেখলেই ভয় পান। কারণ এই গ্রামে অতীতে রাখি বাঁধা নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অনেকদিন ধরেই এই ঘটনা ঘটে চললেও অতীতে অনেকসময়ই বোনেরা তাদের ভাইদের কব্জি 'রাখি' বাঁধার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, সূর্যনারায়ণ মিশ্র, সত্যনারায়ণ মিশ্র, সিদ্ধনারায়ণ মিশ্র, অযোধ্যা প্রসাদ, দীপ নারায়ণ মিশ্র, বাল গোবিন্দ মিশ্র, সন্তোষ মিশ্র, দেবনারায়ণ মিশ্র, ধ্রুব নারায়ণ মিশ্র, স্বামীনাথ মিশ্র - জগতপূর্ব গ্রামের প্রত্যেক বাসিন্দার পরিবারেই কখনও না কখনও রাখি-কে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক খুন, আত্মহত্যা, দুর্ঘটনারক মতো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

স্বাধীনতার আট বছর পর, ১৯৫৫ সালে একবার গ্রামে রাখি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেইবারও গ্রামের এক যুবক রহস্যময়ভাবে খুন হয়েছিলেন। এরপর আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে, গ্রামের মেয়ে-বোনেদের অনুরোধে রাখি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেদিনও একটি অশুভ ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। তারপর থেকেই আর কেউ রাখি উদযাপন করার সাহস দেখায়নি এই গ্রামে।

তবে পূর্বপুরুষদের মুখ থেকে এই রাখি-র অভিশাপ কাটানোর একটি সমাধানও পেয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বিশ্বাস রাখির দিন যদি গ্রামের কোনও পরিবারে কোনও শিশুর জন্ম হয়, তবেই এই অভিশাপ মুক্ত হবে ওই গ্রাম। কিন্তু, তিন প্রজন্মের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেও, তা ঘটেনি। তাই রাখি আজও বন্ধ জগত পূর্ব গ্রামে। জানা গিয়েছে, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও বাকি ভারতের মতো রাখি উৎসবের জৌলুশ নেই। জগৎপূর্ব গ্রামের অভিশাপ কতদূর পর্যন্ত কাজ করবে, তা তো কেউ জানে না।