Jantar Mantar Protest: শনিবার সন্ধ্যায়, দিল্লির হরকিষাণ সিং সুরজিত ভবনে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেয় সিজেপি, এসএফআই এবং এআইএসএফ। যন্তর মন্তর ২.০-কে কেন্দ্র করে এই সাংবাদিক সম্মেলনে সিজেপি-র তরফে উপস্থিত ছিলেন অজিঙ্ক শিন্ডে। পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, এবং অন্যান্য নেতৃত্বরা।

Jantar Mantar Protest: প্রতিবাদ থামছে না, বার্তা দিল ককরোচ জনতা পার্টি। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সিজেপি, বাম ছাত্র সংগঠন এবং বিরোধীদের আন্দোলনে কার্যত, দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে শনিবার (Jantar Mantar Protest)। ১০ অক্টোবর, এই অভিযানের ডাক দেয় সিজেপি। সময় যতই এগিয়েছে, জমায়েত ততই বাড়তে শুরু করে। তবে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বাস চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বন্ধ করা হয় ট্রেন এবং মেট্রো পরিষেবা (cjp protest news)। শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। তারপরেই বিরাট বার্তা দিল সিজেপি নেতৃত্ব।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বড় ঘোষণা সিজেপি-র! সঙ্গে এসএফআই এবং অন্যান্য সংগঠন

আরও পড়ুন - Jantar Mantar Protest: মমতা-বেবি-ঐশী-নেহা-ডিপকে সবাই গ্রেফতার! আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, আইনজীবীদেরও আটক করল পুলিশ

বিমানের ভিতর থেকেই গ্রেফতার করা হয় সিজেপি নেতৃত্ব অভিজিৎ ডিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালীন গ্রেফতার হন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ, আইসা নেত্রী নেহা বোরা, সিপিএম-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকেই। সিজেপির ডাকে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বহু আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটকেও আটক করা হয়। তারপরেও বিশাল সংখ্যক ছাত্র-যুবদের জমায়েত হয়। পুলিশ কার্যত, টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলছে আন্দোলনকারীদের। এমনকি, আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথেও অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও খবর।

দিল্লির কনট প্লেস থেকেও আটক করা হয় একাধিক আন্দোলনকারীকে। দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র মারফৎ জানা গেছে, প্রায় ১,০০০ বিক্ষোভকারীকে আটক হয়েছেন। তারপরেই শনিবার সন্ধ্যায়, দিল্লির হরকিষাণ সিং সুরজিত ভবনে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেয় সিজেপি, এসএফআই এবং এআইএসএফ। যন্তর মন্তর ২.০-কে কেন্দ্র করে এই সাংবাদিক সম্মেলনে সিজেপি-র তরফে উপস্থিত ছিলেন অজিঙ্ক শিন্ডে। প্রসঙ্গত, সিজেপি-র বাকি নেতৃত্বরা আটক হতেই সংগঠনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক। পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, এবং অন্যান্য নেতৃত্বরা।

আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানাল জাতিসংঘ

Scroll to load tweet…

সেই সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই অজিঙ্ক শিন্ডে জানান, “এইভাবে আমাদের আটকানো যাবে না। এখন থেকে যতদিন না পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো হচ্ছে বা তিনি নিজে দিচ্ছেন, প্রতিদিন যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল বেরোবে। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরছি।" এসএফআই নেতা সৃজন বলেন, “দেশের ইতিহাসে ১০ অক্টোবর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই আমাদের দেশের সংবিধান এবং ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়ে আমরা শেষদিন পর্যন্ত লড়ব। ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটা খুব জরুরি। দেশে এই প্রথম নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এইরকম ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে। যেখানে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেয়। ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন করলেই দেশদ্রোহী নামে দাগিয়ে দেওয়া হয়। একাধিক নেতৃত্বকে যেভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে, এটাই আমাদের জয়। আসলে সরকার ভয় পাচ্ছে আমাদের। তাই মনে রাখবেন, এই লড়াই শুধু দিল্লির নয়। সারা দেশে এই লড়াই হবে। এসআইআর-এর নামে এই প্রহসন চলবে না। রবিবার থেকে এই ছাত্র বিক্ষোভ গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে যেখানে আটকাবে, সেখানেই যন্তর মন্তর তৈরি হবে।"

Scroll to load tweet…

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে তারা লিখেছে, “দিল্লিতে আজ অনুষ্ঠিত ব্যাপক বিক্ষোভের আগে এবং চলাকালীন বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদেরকে যেভাবে আটক করা হয়েছে, সেই খবরে আমরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন এবং তা নিশ্চিত করা হয়।" সেইসঙ্গে, একটি পোস্টারে তারা বলেছে, “যাদেরকে আটক রাখা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।"

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।