"ওঁকেও ধর্ষকদের সঙ্গে জেলে রাখা উচিত।... ওঁর মতো মহিলার গর্ভেই তো এমন ধর্ষকরা জন্ম নেয়।"

এদিন কঙ্গনা রানাওয়াতের মন্তব্য়ে বেশ আলোড়ন পড়ে যায়। কারণ, যাঁর সম্পর্কে  কথাগুলো বললেন  কঙ্গনা, তিনি কিন্তু যে-সে কেউ নন। সুপ্রিম কোর্টের প্রথম সারির আইনজীবী ইন্দিরা জয়সওয়াল। 

ঘটনার সূত্রপাত দিনকয়েক আগে। নির্ভয়ার মায়ের উদ্দেশে ইন্দিরা বলেছিলেন,  সোনিয়া গান্ধির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মেয়ের ধর্ষকদের ক্ষমা করে দিতে। যা শুনে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নির্ভয়ার মা আশাদেবী।  বলেছিলেন, এমন কথা বলার সাহস পান কী করে উনি। ওঁর মতো মানুষদের জন্য়ই  ধর্ষকদের এই অবস্থা।

প্রসঙ্গত, নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি বারেবারেই পিছিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ আশাদেবী-সহ অনেকেই। অনেকেরই বক্তব্য়, এভাবে বারেবারে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ নিয়ে সময় নষ্ট করছে অপরাধীরা।  প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ২২ জানুয়ারি ফাঁসি হবে ওই চারজনের। তারপর অপরাধীদের মধ্য়ে কেউ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জানায় যে, অপরাধ ঘটার সময়ে সে নাবালক ছিল। যদিও শীর্ষ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। অন্য়দিকে আরেকজন অপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করে। ফলে পিছিয়ে যায় ফাঁসির দিন। পরে আবার নতুন দিন ঠিক হয় ১ ফেব্রুয়ারি।

মৃত্য়ুদণ্ডের বিরোধী হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী তথা মানবাধিকার কর্মী ইন্দিরা জয়সওয়াল অপরাধীদের ক্ষমা করে দিতে অনুরোধ করেন নির্ভয়ার মা আশাদেবীকে। সেখানে তিনি সোনিয়া গান্ধির দৃষ্টান্ত টানেন। প্রসঙ্গত, শুধু সোনিয়া গান্ধিই নন, গ্রাহাম স্টুয়ার্ট স্টেইনের স্ত্রী-ও তাঁর স্বামী ও বাচ্চাদের  জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধে অপরাধীদের ক্ষমা করে দেন।

এমতাবস্থায় কঙ্গনা রাওয়াতকে প্রশ্ন করা হয়, ইন্দিরা জয়সওয়াল বলেছেন অপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে, আপনার কী মত। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওঁকেও (ইন্দিরা) ধর্ষকদের সঙ্গে জেলে রাখা উচিত। ওঁর মতো মহিলাদের গর্ভেই জন্মায় এই ধর্ষকরা।"