মৃত্যুর ৫০ বছর কেউ পর ঘরে ফিরে এসেছে, এমন ঘটনা সচরাচর শোনা যায় না। এমনই আশ্চর্যজননক ঘটনা ঘটেছে কর্নাটকের চিত্রদূর্গ জেলার এক গ্রামে। আর তারপর থেকেই সেই 'মৃত মানুষ'-কে নিয়ে এলাকায় ব্যপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাঁকে একবার দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারাও।

বেঙ্গালুরু শহর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে চিত্রদূর্গ জেলার চাল্লাকেরে গ্রামে জন্মেছিলেন সান্না ইরজ্জা। তাঁর পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি তাঁর যখন ৩০ বছর বয়স তখনই এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইরজ্জা। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এমনকী গ্রামের প্রবীনদের কারোর কারোর তাঁর পারলৌকিক কর্মে অংশ নেওয়ার কথাও মনে আছে।

তারপর থেকে ৫০ বছর কেটে গিয়েছে। এখন ইরজ্জার বয়স ৮০-র ঘরে। দিন কয়েক আগে গ্রামের কয়েকজন অন্ধ্রপ্রদেশের এক গ্রামে গিয়েছিলেন ভেড়ার খাবার কিনতে, আর সেখানেই ইরজ্জাকে খুঁজে পান তাঁরা। ইরজ্জা জানিয়েছেন, তিনি কীভাবে ওই গ্রামে এসেছিলেন, তার আগের জীবনের কথা - কিছুই তাঁর মনে ছিল না। কিন্তু গ্রামবাসীদের দেখে তাঁর কর্নাটকের গ্রামের কথা মনে পড়ে যায়। তিনি ওই গ্রামবাসীদের কাছে গ্রামের নাম, এবং তাঁর স্ত্রী-সহ গ্রামের কয়েকজন প্রবীন ব্যক্তির নাম হলেন। তাতেই অবাক হয়ে যান গ্রামবাসীরা। তারা খবর দেন ইরজ্জার ভাই বেভিগন্না-কে। এভাবেই ৫০ বছর পর ফের একবার পরিবারের সঙ্গে মিলন হয়েছে ইরজ্জার।

তাঁর স্ত্রী ইরম্মা জানিয়েছেন, বহু বছর আগে এক ফকির তাঁর হাত দেখে বলেছিলেন ইরজ্জা আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই সময় তিনি ফকিরের কথা বিশ্বাসস করেননি। কারণ স্বামীকে কবর দেওয়া হয়েছিল, তিনি নিজে দেখেছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্য়ুর দিন তিনেক পর ফের কবরখানায় গিয়ে জায়গাটি খোঁড়া অবস্থায় পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, শিয়ালের কাণ্ড। তবে নেপথ্যের কাহিনী যাই হোক, এতদিন পর 'মৃত' স্বামীকে ফিরে পেয়ে তিনি দারুণ আহ্লাদিত।

পুলিশ অবশ্য এইসব অতিলৌকিক কাহিনিকে পাত্তা দিচ্ছে না। তাদের সন্দেহ ইরজ্জা নিজেই ঘর ছেড়ে কোনও 'যোগী'দের গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্ধ্রে চলে গিয়েছিলেন। তবে কবর খুঁড়ে উঠে আসা কীভাবে সম্ভব তার ব্যাখ্যা পুলিশও খুঁজছে।

দ্বিতীয় জীবনটা কিন্তু সন্ন্যাসী হয়ে কাটাননি ইরজ্জা। দুই-দুইবার বিয়ে করেছেন গত ৫০ বছরে। মোট ১২জন সন্তান আছে তাঁর এই জীবনে। কর্নাটকের বাড়িতে তাঁর প্রথম জীবনের সন্তানরাও বাবার এই প্রত্যাবর্তন ভালোভাবেই নিয়েছে। তবে বাবার 'মৃত্যু'র সময় তাঁরা অনেক ছোট ছিলেন, তাই বাবার আগের স্মৃতি তাঁদের নেই বললেই চলে।