জঙ্গিদের তাড়া খেয়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তাঁদের নির্বাসিত হওযার পর ৩১ বছর কেটে গিয়েছে। কংগ্রেস সরকার তাঁদের জন্য কিছুই করেনি। নরেন্দ্র মোদী সরকার অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু, তারপরও কেন্দ্র তাঁদের শারীরিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য কিছুই করছে না বলে অভিযোগ করল দিল্লিতে অবস্থিত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একটি এনজিও। এই অবস্থায় মোদী সরকারে বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছে তারা।  

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে 'কাশ্মীরি পণ্ডিত মাইগ্র্যান্টস রিকনসিলিয়েশন, রিটার্ন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন' নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওই এনজিও-টির চেয়ারম্যান সতীশ মহলদার বলেছেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মনে হচ্ছে মোদী সরকার তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাঁর যুক্তি, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের সূচনার মধ্য দিয়ে ভগবান রামের নির্বাসন শেষ হয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসন কবে কখন শেষ হবে, তা এখনও কেউ বলতে পারছে না।

২০১৯ সালের ১৪ জুন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ঘরে ফেরা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে কাশ্মীর উপত্যকায় ৪১৯ টি কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারকে জমি ও বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মোদী সরকার। তারপর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, আজ অবধি কেউ সেই পুনর্বাসনের সুযোগ পাননি। কাশ্মীরের 'মূল আদিবাসিন্দারা' ৩১ বছর পরও গৃহহীন রয়ে গিয়েছেন।

এই অবস্থায় মহলদার দাবি করেছেন উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিত শরনার্থীদের জন্য ন্যূনতম ৩০০ একর জমি অবিলম্বে বরাদ্দ এবং অনুমোদন করতে হবে। সেইসঙ্গে চলতি আর্থিক বছরেই পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের জন্য পরিবারের প্রতি তাত্ক্ষণিকভাবে ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে। এই টাকা দিয়ে প্রাপ্ত জমিতে তাঁরা ৪ শয়নকক্ষ বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করবেন। সেইসঙ্গে ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় নিরীহ পণ্ডিতদের হত্যার তদন্তের জন্য এবং তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়নের পিছনে কারা দায়ী তা বের করার জন্য, একটি বিশেষ তদন্তকারী দলের বা এসআইটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন।