পুলিশি অত্যাচারে আত্মহত্যা যুবকের! ভয়ঙ্কর উত্তপ্ত জম্মু-কাশ্মীর

জম্মু ও কাশ্মীরের কঠুয়া জেলায় ২৬ বছর বয়সী এক যুবক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত যুবকের নাম মাখন, বাটোডি গ্রামের বাসিন্দা। তাকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় পুলিশ মাখন ও তার বাবাকে আটক করে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্কে তথ্য দিতে চাপ দেয়। পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে মাখন বুধবার রাতে বিলাওয়ার এলাকায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মাখন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। ভিডিওতে তিনি বলতে দেখা যায় যে, তার সন্ত্রাসবাদীদের সাথে কোনও সম্পর্ক নেই। মাখনের মৃত্যুর পর প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ কঠুয়ায় মাখন দীনের আত্মহত্যা এবং ওয়াসিম আহমেদ মাল্লার সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দুটি ঘটনাই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। তিনি বলেছেন, "বিলাওয়ারে পুলিশি হেফাজতে মাখন দীনের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের খবর পেয়েছি, যার ফলে সে আত্মহত্যা করেছে।" ওয়াসিম আহমেদ মাল্লার মৃত্যুর ঘটনায়ও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাকে সেনাবাহিনী এমন পরিস্থিতিতে গুলি করেছে যা সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারবে না এবং সন্ত্রাসবাদ মুক্ত হতে পারবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, যাদের আমাদের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখার জন্য সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। ওমর আব্দুল্লাহ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দুটি ঘটনারই নিরপেক্ষ, সময়োপযোগী এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও, জম্মু ও কাশ্মীর সরকারও নিজস্ব তদন্তের নির্দেশ দেবে।

জেলাশাসক এক আদেশে জানিয়েছেন, "মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের প্রয়োজন।" বৃহস্পতিবার জারি করা আদেশ অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তের জন্য লোহাই মালহারের তহশিলদার অনিল কুমারকে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।