শুরুটা হয়েছিল গত বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই। তখনও কোভিড মহামারি ভারতে পা রাখেনি। দিল্লির নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে নরম হিন্দুত্ব (সফট হিন্দুত্ব)-এর খেলায মেতেছিলেন আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার দীপাবলিতে সেই নয়া রাজনৈতিক পথে আরও এক কদম এগিয়ে গেলেন তিনি। আর সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জয় বলেই দাবি করল বিজেপি।

সম্প্রতি আপ-এর অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন তিনি ও দিল্লি মন্ত্রিসভার অন্যান্য মন্ত্রীরা ১৪ নভেম্বর দীপাবলির দিন সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৩৯ মিনিটে অক্ষরধাম মন্দিরে 'দীপাবলি পূজা' করবেন। সেই পূজা লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। দু'কোটি দিল্লিবাসীকে তিনি টিভির স্যুইচ অন করে বাড়িতে বসে তাঁদের সঙ্গে একসঙ্গে দীপাবলি পূজা করার আহ্বান জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে দিল্লির প্রত্যেকে একসঙ্গে পুজো করলে ঐশ্বরিক ভূমিকম্প তৈরি হবে। দিল্লির দৃষ্ট অদৃষ্ট সকল শক্তি দিল্লির সমস্ত নাগরিককে আশীর্বাদ করবে।

কেজরিওয়ালের এই 'দীপাবলি পূজন'এর আবেদনের বিষয়ে শুক্রবার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিজেপির তরুণ নেতা তেজস্বী সূর্য। তাঁর মতে কেজরিওালের এই পদক্ষেপ বলে দিচ্ছে বর্তমান সময়ে দেশের কোনও নেতাই 'হিন্দু বিরোধী' হয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে পারবেন না। এটাই ভারতীয় রাজনীতির নিউ নর্মাল বা 'নতুন সাধারণ' বলে দাবি করেছেন তেজস্বী। তাঁর মতে ভারতের রাজনীতির এই পরিবর্তনের সব কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ভারতের সব রাজনৈতিক দলের 'হিন্দুত্বকরণ'ই সাভারকরের স্বপ্ন ছিল বলে জানান তিনি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে দীপাবলি পূজার জন্য শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তেজস্বী।

এ আগে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা দিল্লির বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীর অবশ্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এই পুজো করা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন। দিল্লিতে যখন ফের কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তখন মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তি প্রচারে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন গম্ভীর।