নির্বাচনের আগে হাতে আছে আর মাত্র কয়েক মাস। তার মধ্যেই শুক্রবার কেরলের রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে গেল। তহবিল তছরুপের ঘটনায় ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পরদিনই পদত্যাগ করলেন ক্ষমতাসীন দল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়েরি বালাকৃষ্ণন। এলডিএফের আহ্বায়ক এ বিজয়রাঘবনকে আপাতত দলীয় সম্পাকের পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিএম-এর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চিকিত্সার আপাতত এই পদের দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চেয়েছিলেন রাজ্য সম্পাদক। দলের পক্ষ থেকে বালাকৃষ্ণনের সেই আবেদনটি গ্রহণ করেছে। তবে কতদিন তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে থাকবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ করা হয়নি।  

দলের পক্ষ থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের কথা জানানো হলেও, সিপিএম এবং বাম জোটের অন্দরের খবর, যেভাবে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট তাঁকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলছিল, তাতে খুব শিগগিরই কোডিয়ায়েরি পদত্যাগ করতে পারেন, এমন সংবাদ গত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। বস্তুত, এক বছর আগে যখন তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে প্রথম তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল, তখনই কোডিরারি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, সিপিএম-এর রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে, পদে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে সিপিএম ও বাম জোটের নেতাদের একাংশের মত ছিল আদর্শগত ভাবে এই অভিযোগের নৈতিক দায় নিয়ে তাঁক সরে যাওয়াই উচিত ছিল। এতদিনে তা ঘটার পর, তাঁরা বলছেন, কোডিয়েরি বালাকৃষ্ণনের দৃষ্টান্ত গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নেরও পদত্যাগ করা উচিত। বিরোধী ইউডিএফ ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেরলের সোনা পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে।