এমনিতে সিপিএম-তৃণমূলে সম্পর্ক  যাকে বলে তেলে-জলে। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনই ভেঙে দিচ্ছে সব ছুৎমার্গ। রাজ্যে যাতে নাগরিকত্ব আইন চালু না করা হয়, তার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তবে শুধু মমতা নয়, শুক্রবার বিজয়ন একই আবেদন করলেন দেশের মোট ১১ জন অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রী-কে।  

এখন পর্যন্ত দেশের মধ্যে একমাত্র কেরলেই বিধানসভাতে এই নাগরিক আইন বাতিল করার দাবি জানিয়ে একটি রেজোলিউশন পাস করা হয়েছে। শাসক বামেরা ও বিরোধী কংগ্রেস সকলেই এই রেজোলিউশনে সম্মতি জানিয়েছেন। সেই কড়া বিরোধিতার অবস্থান থেকেই এদিন ১১জন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি লেখেন বিজয়ন।

এঁরা হলেন ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে, অন্ধ্র প্রদেশের জগনমোহন রেড্ডি, পুদুচেরির ভি নারায়ণস্বামী, মধ্যপ্রদেশের কমল নাথ, পঞ্জাবের অমরিন্দর সিং, রাজস্থানের অশোক গেহলট এবং ওড়িশার নবীন পট্টনায়েক। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিজেপি সঙ্গী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-কেও চিঠি দিয়েছেন বিজয়ন।

চিঠিতে বিজয়ন লিখেছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ নিয়ে সমাজের বৃহত্তর অংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধ-কে রক্ষা এবং সংরক্ষণ করতে ইচ্ছুক সমস্ত ভারতীয়দের একজোট হওয়াই সময়ের দাবি। কেরলের মতো একই ধরণের পদক্ষেপ সিএএ-র বিরোধী বাকি রাজ্যগুলিকেও বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সব রাজ্য এভাবে জোট বাঁধলে তা সিএএ ও এনআরসি-র প্রবর্তকদের চোখ খুলে দিতে পারে বলে তাঁর আশা। এনআরসি সম্পর্কে আশঙ্কার সমাধানে কেরল রাজ্যে এনপিআর সম্পর্কিত সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বলেও জানান তিনি।