কেরলের গর্ভবতী হাতিকে কেউই জোর করে বাজি ভর্তি ফল খাওয়ায়নি। এটি নিছকই একটি দুর্ঘটনা। প্রথমিক তদন্তের পর সোমবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। পাশাপাশি মন্ত্রকের তরফে আরও জানান হয়েছে কেরল সরকারের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। 


পরিবেশ মন্ত্রকের তরফে আরাও জানান হয়েছে, বন্য শুয়োরদের অত্যাচারের হাত থেকে ফসল বা সম্পত্তি বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা ফল বা মুরগীর মধ্যে বাজি ভর্তি করে রেখে দেন। সেই রকমই একটি বাজি ভর্তি ফল খেয়েছিল ১৫ বছরের গর্ভবতী হাতি। তাই থেকেই মৃত্যু হয় হাতিটির। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। তবে ঘটনাকে অত্যন্ত অমানবিক তকমা দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধও বলা হয়েছে। 

রবিবারই পরিবেশ মন্ত্রক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিল। যেখানে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন প্রয়োজনে সবরকম কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।  পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন  সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবরে বিশ্বাস না করতে। কেরল সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত খুব তাড়াতাড়ি শেষ করার বিষয়েও আশাবাদী বলে জানিয়েছেন তিনি। 

গত সোমবারই কেরলে বাজি ভর্তি ফল খেয়ে জখম হাতিটির মৃত্যু হয়। তারপরই থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। দেশ জুড়ে তুমুল প্রতিবাদ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন  বিজেপি নেত্রী ও পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত মানেকা গান্ধী।