সংসদের উভয় কক্ষেই ইতিমধ্যে পাশ হয়ে গিয়েছে তিন তালাক বিল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়ে বুধবার থেকেই তা পরিণত হয়েছে আইনে। এই আইন মোতাবেক কোনও ব্যক্তি যদি তাঁর স্ত্রীকে তাৎক্ষনিক তিন তালাখ দেন তাহলে তিন বছর পর্যন্ত কারাবাসের সাজা হতে পারে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিলটির প্রধান চারটি বৈশিষ্ট ।  

তাৎক্ষনিক তিন তালাখ এখন একটি ফৌজদারি অপরাধ। এর সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল। অভিযুক্ত স্বামী আদালতে জামিনের আবেদন জানালে শুধুমাত্র পুলিশের বক্তব্য শুনেই তার ফয়সালা করতে পারবেন না বিচারক। তিন তালাক আইনের সেকশন ৭ (সি) অনুযায়ী যে মহিলাকে তাৎক্ষনিক তিন তালাখ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্যও এক্ষেত্রে শোনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু বাধ্যতামূলক নয়, সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে অভিযোগকারিণী মহিলার বক্তব্যকেই।  
   
আইনের ভাষায় তিন তালাক দেওয়া একটি কম্পাউন্ডেবেল অপরাধ। অর্থাৎ অভিযোগকারিণী যদি চান, সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন অভিযুক্ত স্বামী। তিন তালাক আইনের ৭ (বি) ধারায় বলা হয়েছে অভিযোগকারিণী স্ত্রী যদি চান তাহলে তিনি তাঁর স্বামীকে অভিযোগ থেকে মুক্ত করতে পারেন। যদিও বিচারক মনে হলে কিছু বাড়তি শর্তাবলিও যুক্ত করতে পারেন অভিযুক্তের মুক্তির ক্ষেত্রে।  

তিন তালাক আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি যদি তাঁর স্ত্রীকে আইন মেনে তালাক দেন, তাহলে সেই দম্পতির নাবালক সন্তানদের নিজের হেফাজতে চাইতে পারবেন না স্বামী। এছাড়াও নাবালক সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য স্বামীর থেকে খোরপোশ পাবেন স্ত্রী। কেবল মাত্র নাবালক সন্তানদের জন্যই নয়, বাকি নির্ভরশীল সন্তানদের জন্যও খোরপোশের আবেদন জানাতে পারবেন বিবাহ বিচ্ছিন্না স্ত্রী।   

এছাড়াও বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনতে আইনে বলা হয়েছে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসেই হবে তালাক মামলার শুনানি।  দাম্পত্য বিবাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় দেখা গিয়েছে বাড়ি থেকে আদালতের দুরত্ব বেশি হওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অসুবিধায় পড়েন মহিলারা। সেই সমস্যার সুরাহা করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।