উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে হানা দিল চিতাবাঘ। স্তম্ভিত শিশুদের সামনেই হামলা করল একটি কুকুরের উপর। ক্লাসে লুকিয়ে পড়ে কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচল শিশুরা। এই ঘটনা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। বন দপ্তর থেকে চিতাবাঘটি ধরার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের রিলভিট-এর কেরাতপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের সরকারি স্কুল তখনও বসেনি, সবে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসেছে। এইরকম সময়ই আচমকা একটি চিতাবাঘ স্কুল ক্যাম্পাসে চলে আসে। আচমকা সামনে চিতাবাঘ থেকে থতমত খেয়ে গিয়েছিল শিশুরা। তাদের সামনেই চিতাটি একটি কুকুরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরটিকে মেরে পাশের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে বসেই কুকুরটিকে সাবাড় করে সে।

আতঙ্কে শিশুরা ছুটে তাদের ক্লাসে চলে আসে। ক্লাসের দরজা বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকে। এর মাঝে চিতাবাঘটি সেখান থেকে চলে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক নিধি দিবাকর স্কুলে আসলে ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ঘটনাটি জানায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগকে খবর দেন। বন পরিদর্শক আজমের যাদব-এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তার পায়ের ছাপের ছবি তোলে।

স্কুলের কাছেই পিলভিট টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্গত বারাহি জঙ্গল। সেখান থেকেই চিতাটি স্কুলে চলে এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পিলভিট টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টের ডেপুটি ডিরেক্টর নবীন খান্ডেলওয়াল জানিয়েছেন, পায়ের ছাপ দেখে জানা গিয়েছে চিতাটি প্রাপ্তবয়স্ক। বারাহি রেঞ্জের অফিসার-কে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য এবং চিতাবাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য স্কুলে সশস্ত্র বনকর্মীদের একটি দল মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বন দপ্তরের আশা দু-একদিনের মধ্যেই চিতাবাঘটি বনে ফিরে যাবে।

স্কুলে বন দপ্তর থেকে সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হলেও, স্কুলে আসার পথেও চিতা হামলা করচে পারে। তার জন্য গ্রামের প্রধান রণজিৎ সিং ছেলেমেয়েদের দল বেঁধে একসঙ্গে স্কুলে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরাও তীব্র আতঙ্কিত।