প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখার দু কিলোমিটারের মধ্যে সেনাবাহিনীর  কোনও সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। ব্যবহার করতে পারবে না কোনও বিস্ফোরণকও। ভারত চিন সীমান্ত চুক্তিতে তেমনই বলা ছিল। আর সেই কারণে নাকি গত সোমবার নিরস্ত্র অবস্থাতেই ভারতীয় সেনা জওয়ানরা ছিল। খালি হাতে থাকা ভারতীয় সেনাদের ওপর নির্মম  অত্যাচার চালায় চিনা সেনা। লোহার রড, লাঠি পাথর আর পেরেক লাগানো কাঠি নিয়ে চড়াও হয় ভারতীয় সেনাদের ওপর। আর সেই সংঘর্ষের জেরে প্রায় যায় ২০ জওয়ানের। 

এই ঘটনা সামনে আসার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল কেন ভারতীয় জওয়ানরা নিরস্ত্র অবস্থায় শক্রুর সঙ্গে মোকাবিলায় গিয়েছিল। কে তাদের পাঠিয়েছিল। প্রশ্ন কর্তাদের মধ্যে প্রথম সারিতেই ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। 

কিন্তু লাদাখ সীমান্তের এই সংঘর্ষের পরই বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে ভারতীয় সেনা বাহিনীর অন্দরে। সূত্রের খবর বদলে ফেলা হচ্ছে ১৯৯৬ ও ২০০৫ সালে ভারত চিন চুক্তি। যে চুক্তিতে বলা হয়েছিল ভারত চিন উভয় দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ২ কিলোমিটারের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে না। সেইমত এতদিন দুই দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই থাকত। কিন্তু সেনা সূত্রের খবর এবার থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে ফিল্ড কমান্ডারকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে । আর এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়েই বদলে যেতে চলছে দশক পুরনো নিয়ম। 

লাদাখ সীমান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণী অভিনেতা কমল হাসানও। তিনি বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের জীবন কী ভাবে সুরক্ষিত করা হচ্ছে তার ব্যখ্যা দিক কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন সীমান্ত কেউ অনুপ্রেশ করেনি। কেউ আমাদের জমি অধিগ্রহণ করেনি। যদিও প্রধানমন্ত্রী আগেই  পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমান্তে সবরকম ভারতীয় সেনাকে সবরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই পথে হেঁটেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।