সোমবারই জানা গিয়েছে পূর্ব লাদাখের পর সিকিম-এর নাকু লা অঞ্চলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে চিনা পিএলএ সেনা। এই নিয়ে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে হাতাহাতিও হয়েছে তাদের। তারমধ্য়েই পূর্ব লাদাখে এখনও চিনা সেনা ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেই দাবি করেছেন সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের প্রধান। ভারতীয় রাস্তা ব্যবহার করেই চিনা যানবাহন ভারতে প্রবে করছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ভিতরে ঠছুকে আসছে তারা।

রবিবার (২৪ জানুয়ারি) ভারত ও চিনের কর্পস কমান্ডাররা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ১৫ ঘন্টা দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। অথচ, পূর্ব লাদাখের ডেমচক সেক্টরে চিনা পিএলএ ও চিনা নাগরিকরা নিয়মিত অনুপ্রবেশ করে চলেছে বলে জানিয়েছেন কাকজুং নামে সীমান্তবর্তী এক গ্রামের প্রধান উর্গেন তেসওয়ানং। সর্বভারতীয় পত্রিকা 'দ্য হিন্দু' পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর কাছে চিনা অনুপ্রবেশের বিষয়ে দুটি ভিডিও রয়েছে। শুধু তাই নয় উর্গেন দাবি করেছেন, চলতি শীতে বপশু চড়াতে গিয়ে চিনা নাগরিকদের বাধার মুখে পড়েছিলেন ভারতীয় যাযাবররা। তাদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওযা হয়। এই চিনা অসামরিক নাগরিকদের মধ্যে প্রচুর সংখ্য়ায় চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির সদস্যরা লুকিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

উর্গেন জানিয়েছেন প্রথম ভিডিওটি তোলা গত ১০ ডিসেম্বর। গ্রামবাসীরা সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বের এক জায়গায় গিয়ে চিনা নাগরিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে এলাকাটির ছবি তুলছিল তারা। গ্রামবাসীদের ফিরে এসেই সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেনা তাদের বলেছিল, সেখানে শিবির গড়ে থাকতে। ওই এলাকায় ৪-৫ দিন পাহারায় থেকে গিয়েছিলেন যাযাবর গ্রামবাসীরা। ১৬ ডিসেম্বর আবার ফিরে এসেছিল, চিনারা। এবার এসেছিল দুটি গাড়ি। তবে তাদের দুর্ভাগ্য, সেদিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেমচকের সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইটিবিপি (ITBP)-র কর্মকর্তারা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাদের সঙ্গে যোদ দিয়ে চিনা গাড়িগুলি তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এলাকাটি ভারতীয় অঞ্চলের পেট্রলিং পয়েন্ট ৩৮-এর কাছাকাছি। সেখানে সাধারণত ওই যাযাবর গ্রামবাসীরা গবাদি পশু ছড়াতে যায়। গত বছর দু'বছর ধরে পশুদের অসুস্থতার কারণে শীতকালীন পশুচারণে যায়নি তারা। আর তারই সুযোগে ওই এলাকাটি চিনারা নিজেদের জখলে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে দাবহি করেছেন উর্গেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে এবার পশু চড়াতে গিয়ে চিনাদের দেখে অবাক হয়েছিলেন তারা। কারণ, এর আগে ওই অঞ্চলে কোনদিন চিনাদের অনুপ্রবেশ ঘটেনি। আর এর জন্য তারা ভারতের তৈরি রাস্তাই ব্যবহার করছে।

তবে এই চিবা আগ্রাসন, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির স্থানীয় বাসিন্দারাই আটকে দেবেন বলে জানিয়েছেন উর্গেন। তাঁর আশা তিনি যেহেতু সবটাই ফোনে রেকর্ড করেছেন, তাই এই ভিডিও দুটি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনা আগ্রাসনকে হাতেনাতে ধরিয়ে দেওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, কার্গিল যুদ্ধের আগে সএখানকার পশু পালকরাই পশু চড়াতে গিয়ে পাক অনুপ্রবেশ-এর সন্ধান এনে দিয়েছিল সেনাকে। তারপরই শুরু হয়েছিল অভিযান।