সোমবার সংসদে পেশ করা হয়েছে কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল। কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত নয়া এই বিলে বলা হয়েছে, কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা রদ করা হবে এবং জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ-কে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞলের মর্যাদা দেওয়া হবে। সোমবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ-কে আলাদা দু'টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রূপ দেওয়া হল, যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা থাকবে  এবং লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকবে না। 

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে কার্যত খুশি লাদাখবাসী। সেখানকার  প্রভাবশালী লাদাখ বৌদ্ধ সমিতির কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত লাদাখের মানুষর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছে। লাদাখ বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিটি কুনজাং-এর কথায়, ১৯৪৯ সাল থেকে লাদাখের জনগণ লাদাখকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবিতে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, গত ৭০ বছর ধরে লাদাখবাসী তাঁদের দাবি পূরণের জন্য বহু আন্দোলন চালিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হিসাবে মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল বলেও জানান তিনি। 

লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গে লাদাখ বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিটি কুনজাং এনডিএ সরকারের প্রশংসাও করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো কৃতিত্বই বিজেপি পরিচালিত এনডিএ সরকারকেই দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, গত ৭০ বছরে অনেক সরকার এসেছে, অনেক সরকার গিয়েছে, সরকারের তরফ অনেক প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাদাখের ঝুলি থেকে শূন্য। তবে আজ প্রধানমন্ত্রী যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সত্যিই অত্যন্তপ্রশংসনীয়, এমন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মোদী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। 

 

বহু দিনের প্রত্য়াশা পূরণের পর লাদাখের মানুষ উৎসব মুখর হয়ে উঠেছেন। লাদাখের সাধারণ মানুষ এই আনন্দ উদযাপন করছেন বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে।