সেটা ছিল ২০১৬ সাল। লালুপ্রসাদ যাদব তখনও জেলে-হাজতে যাননি। আর ইরফান খান এসেছিলেন বিহারের রাজধানী পাটনায়। সামনেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল 'মাদারি' ছবির। তার প্রচারেই পাটনায় এসেছিলেন ইরফান। আরজেডি সুপ্রিমোর বাড়িতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিলেন দুজনে। সব স্তরের মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার দারুণ ক্ষমতা ছিল ইরফানের। আর ভারতীয় রাজনীতিতে লালুপ্রসাদের মতো বর্ণময় চরিত্র আর কে আছেন? কী হয়েছিল দুজনের মোলাকাতে?

লালুকে ইরফান খান 'ডম্বরু' বা ডুগডুগি বাজাতে বলেছিলেন। গ্রামেগঞ্জে মাদারিরা খেলা দেখানোর সময় 'ডম্বরু' বাজান। তাই লালুপ্রসাদ ডম্বরু বাজালে তাঁর ছবি 'মাদারি'র প্রচার হবে বলে ইরফান এই অনুরোধ করেছিলেন। ইরফানের অনুরোধ ফেলেন তো নিই বরং আরজেডি সুপ্রিমো সাগ্রহে তা গ্রহণ করেছিলেন।

তারপর লালুপ্রসাদ দিলীপ কুমার অভিনিত  'উড়ন খাটোলা' ছবির 'ও দূর কে মুসাফির হাম কো ভি সাথ লে চালো' গানটি গেয়েছিলেন। তার সঙ্গে গুনগুন করে গলা মিলিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত অভিনেতাও। তারপর ইরফান সটান লালু-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আরজেডি প্রধান-এর জীবন নিয়ে যদি কোনও বায়োপিক তৈরি করা হয়, তবে তাঁর চরিত্রে কাকে তিনি অভিনয় করতে দেখতে চান? রঙিন রাজনীতিবিদের উত্তর ছিল তিনি নিজেই নিজের ভূমিকায় অভিনয় করতে চান। সেখানেই থামেননি লালু। বলেছিলেন, 'নায়িকা হিসাবে কাকে দেখতে চাই, তা জিজ্ঞাসা করবেন না যেনো'। হাসি চাপতে পারেননি ইরফান খান।

বুধবার তাঁর অকাল প্রয়াণে আরও অনেকের মতো শোকাহত লালুপ্রসাদও। এখন তিনি পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে বন্দি। সেখান থেকেই টুইট করে প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আরজেডি প্রধান। ২০১৬ সালে পাটনায় সেই সাক্ষাতের দিন তোলা একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে লিখেছেন, 'ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম বহুমুখী অভিনেতা ইরফান খানের মৃত্যুর কথা গভীরভাবে শোকাহত। ইরফান যখন পাটনার বাসভবনে এসেছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। একজন বহুমুখি মানুষ, একজন মহান মানুষ। তার তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রয়েছে'।