বেঙ্গালুরুর কোরামঙ্গলে বৃহস্পতিবার 'স্পাইন টেইল লিজার্ড' বা স্যান্ডা গিরগিটি (কন্টকময় লেজযুক্ত একপ্রকার গিরগিটি) পাচার করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ছয় পাচারকারী। তবে যে কারণে এই গিরগিটি-গুলিকে বেঙ্গালুরু শহরে পাচার করা হচ্ছিল, তা জেনে অবাক হয়ে গিয়েছে পুলিশও। অভিযুক্তদের দাবি, এখন বেঙ্গালুরু শহরে নাকি এই জাতের গিরগিটি-র দারুণ চাহিদা। কারণ, লোকের বিশ্বাস এই গিরগিটি পুষলে যৌনক্ষমতা বাড়ে।

বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দাবি, তারা এই গিরগিটিগুলি তারা বেঙ্গালুরু শহরের বেশ কয়েকজন সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ার এবং কিছু রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে সরবরাহ করবে বলে এনেছিল। ওই শহুরে ব্যক্তিরা মনে করেন এই সরীসৃপের রক্ত রাম বা অন্য কোনও রকম ্্যালকোহলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে তাদের যৌন ক্ষমতা উন্নত করবে। এই কারণেই রাজস্থান থেকে এই টিকটিকিগুলি বেঙ্গালুরুতে এনেছিল তারা।

এই স্পাইন টেইল গিরগিটি যার স্থানীয় নাম স্যান্ডা, তা কেবল রাজস্থানেই পাওয়া যায়। ১৬ থেকে ১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত দৈর্ঘের এই গিরগিটিগুলি সাধারণ গিরগিটির থেকে অনেকটাই আলাদা। এদের লেজে শক্ত শক্ত কাঁটা থাকে বলে এদের নাম হয়েছে স্পাইনি টেইল লিজার্ড বা কন্টকময় লেজযুক্ত গিরগিটি। সাধারণত বালুভূমিতেই এরা থাকে। প্রধাণত ঘাস খায়, মাঝে মাঝে ছোট পোকামাকড়ও খায়। তবে কমপক্ষে দু'মাস এরা খাবার না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। এই সরীসৃপের এই গুণকেই কামশক্তি উন্নত করার উৎস হিসাবে বর্ণনা করছে পাচারকারিরা।

পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতার করা ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। অপরজনের বাড়ি কর্ণাটকের চিন্তামণি এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

তামিলনাড়ুন বন্যপ্রাণ অধিকারকর্মী শরৎ বাবু বলেছেন, এর জন্য প্রত্যেক শনি-রবিবার এর জন্য সফটওয়্যার প্রফেেশনাল থেকে শুরু করে অমনেক সিক্ষিত মানুষ তামিলনাড়ু-কর্নাটক সীমান্তের কাছে যান। সেখানেই গিরগিটি-সহ বিভিন্ন সরীসৃপের চোরাচালান চলে। তবে গিরগিটির রক্ত বা মাংস যৌনক্ষমতা বা কামশক্তি বাড়ায়, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শরৎ বাবু এগুলি সবই বাজে কথা বলেউড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই কথা বলেই পাচারকারীরা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছে।