এ যেন কলিযুগের মহাভারত। শুধু কৃষ্ণেরই অভাব। ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের মতোই জুয়া খেলায় স্ত্রীকে বাজি ধরেছিল এক গুণধর স্বামী। হেরে যাওয়ার পর বন্ধুদের হাতে তুলে দিয়েছিল বউকে, দিয়েছিল গণধর্ষণ করার অনুমতি। স্ত্রী বাধা দিলে সে তাঁর উপর অ্যাসিড ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ। যদিও তার দাবি, স্ত্রীর "শুদ্ধি"র জন্যই নাকি সে ওই কাজ করেছে। ভয়াঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের ভাগলপুর জেলায়।

মুজাহিদপুর থানার পুলিশ বলেছে, অভিযুক্ত স্বামীর নাম সোনু হরিজন। জানা গিয়েছে রবিবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী থানায় এসে অভিযোগ জানান। ঘটনার সংবেদনশীলতার কারণে পুলিশ তত্ক্ষণাত্ এফআইআর নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত সোনুকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে অন্যান্য অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক মাস আগে। একমাস আগেই সোনু বাজি হেরে গিয়েছিল। বাজির 'প্রতিশ্রুতি' অনুসারে, সে তার স্ত্রীকে এক মাসের জন্য বিজয়ীদের হাতে তুলে দিয়েছিল। অভিযুক্ত সোনু জুয়া খেলায় স্ত্রীকে বাজি ধরা এবং হেরে গিয়ে তাঁকে জুয়াড়ি বন্ধুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগ মেনে নিয়েছে। কিন্তু, মাঝে ওই মহিলা জুড়ারি বন্ধুদের কাছে যেতে অস্বীকার করায় তাকে অ্যাসিড ঢেলে জখম করেছিল সোনু। এমনটাই তার স্ত্রী-এর অভিযোগ।

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী অ্য়াসিডের পোড়ায় জখম অবস্থায় তাঁকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুজাহিদপুরের একটি বাড়িতে গোপনে আটকে রেখেছিল। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিত্সাও করা হয়। রবিবার, ওই মহিলা তাঁর শ্বশুরবাড়ির খপ্পর থেকে পালিয়ে লোদিপুরে তার বাপের বাড়িতে আসেন। সেখানে পরিবারের কাছে সবটা খুলে বলেন। তাঁর বাবা-মা তত্ক্ষণাত্ তাকে লোদিপুর থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তাঁকে মুজাহিদপুর থানায় পাঠানো হয়।