অনেকসময়ই এই ধরণের মানুষদের আমরা পাগল বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু, এরকম দু-একজনপাগল আছে বলেই হয়তো, এখনও পৃথিবীতে শ্বাস নিতে পারছি আমরা, পৃথিবীটাও ঘুরে চলেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন জায়গার অভাবে বাগান করতে পারছেন না। আর এই ভদ্রলোক তাঁর বাড়ির ছাদে ২,৫০০-রও বেশি গাছ লাগিয়ে ছোটোখাটো অরণ্য তৈরি করে ফেলেছেন। সেখানে ৪০টিরও বেশি বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে। তবে সবই বনসাই। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে, এই প্রকৃতিময় মানুষটাকে চিনে নেওয়া যাক।

মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা এই ব্যক্তি, নাম সোহনলাল দ্বিবেদী। আজ থেকে প্রায় বছর ৪০ আগে, সংবাপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধই পুরো জীবন বদলে দিয়েছিল এই মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারিটির। কী ছিল সেই নিবন্ধে? সোহনলাল জানিয়েছেন, নিবন্ধটি ছিল মুম্বই-এর এক মহিলার সম্পর্কে। তিনি তাঁর বাড়িতে আড়াইশোটির বেশি বনসাই গাছ তৈরি করেছিলেন। সেই নিবন্ধ পড়ে, সোহনলাল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এরকম একটা কিছু করতে হবে। বনসাই গাছ হল কোনও পূর্ণ আকারের গাছের ক্ষুদ্র প্রতিরূপ।

যা ভাবা তাই কাজ। শুরু হয়েছিল বনসাই চর্চা। বিদ্যুৎ বোর্ডে কাজ করার সুবাদে যা বেতন পেতেন, তার প্রায় সমস্তটাই তিনি গাছের পিছনে ব্যয় করতেন। আর এই করতে করতে কখন অনুপ্রেরণাকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন, বুঝতেও পারেননি। এখন সোহনলালের ছাদে ২৫০০-এরও বেশি বনসাই গাছ রয়েছে। দিন দিন আরও বাড়ছে গাছের সংখ্যা। তাঁর অতি যত্নে তৈরি বনসাই গাছগুলি একদিকে তাদের নান্দনিক গুণাবলীর জন্য প্রশংসিত, অন্যদিকে আপেল, জাম, নাশপাতি, তেঁতুল-সহ বহু ফলও ধরে সেগুলিতে।

সোহনলাল দ্বিবেদী জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ প্রকৃতির থেকে দূরে সরে গিয়েছে, গাছপালা থেকে দূরে সরে গিয়েছে। তিনি কিন্তু, দিনের বেশিরভাগ সময়টাই ছাদে তৈরি সবুজে সবুজ ফলের বনে কাটান। এমনকী বাইরের পৃথিবীতেযে ভয়ঙ্কর করোনা মহামারি এসেছে, তার জেরে লকডাউন জারি করা হয়েছে, সেইসব দিকেও তাঁর খেয়াল থাকে না বললেই চলে। তিনি জানিয়েছেন, গত বেশ কয়েক বছর ধরে বেশিরভাগ সময় তিনি বাড়িতেই থাকেন। তাঁর গাছেদের যত্ন নেন। তাই লকডাউনের কোনও আলাদা প্রভাব পড়েনি তাঁর উপর। সেই গাছেদের জন্য়ই তার বাড়ির পরিবেশ এবং বাতাস একেবারে সতেজ।