এর পাশাপাশি, ট্রাফিক আইন ভাঙলে 'নেগেটিভ পয়েন্ট' যোগ করে সড়ক নিরাপত্তা আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

দেশের কোটি কোটি গাড়িচালকের জন্য স্বস্তির খবর আসতে পারে শীঘ্রই। ড্রাইভিং লাইসেন্স বারবার নবীকরণের ঝক্কি কমাতে বড়সড় সংস্কারের কথা ভাবছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) এমন একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যার ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা সরাসরি চালকের ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বর্তমানে ভারতে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে অথবা নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মেয়াদ শেষ হলে চালকদের লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর (আরটিও)-তে আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন নথি জমা দেওয়া, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন পড়ে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। তবে পরিকল্পনা সফল হলে একজন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি তাঁর ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন লাইসেন্স নবীকরণের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষও সময় ও অর্থ দু’দিক থেকেই উপকৃত হবেন।

শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, পরিবহণ সংক্রান্ত একাধিক পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার দিকেও এগোচ্ছে কেন্দ্র। গাড়ি বা মোটরবাইকের মালিকানা হস্তান্তর, পারমিট নবীকরণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আরটিও অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে কিছু রাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, লাইসেন্স নবীকরণের সংখ্যা কমে গেলে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইন ফি সংগ্রহের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে রাজ্যগুলির আর্থিক ক্ষতি না হয়।

ট্রাফিক আইন ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা

একদিকে যেমন সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিয়ম সহজ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হওয়ার কথাও ভাবছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে চালকদের নামে ‘নেগেটিভ পয়েন্ট’ যুক্ত হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কোনও চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নেগেটিভ পয়েন্ট জমা হয়, তাহলে তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা গুরুতর ক্ষেত্রে বাতিলও করা হতে পারে। এর ফলে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

যদিও এই সমস্ত প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রস্তাবগুলি অনুমোদন পেলে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কাগজবিহীন এবং নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবহণ ক্ষেত্রে এই সম্ভাব্য সংস্কার বাস্তবায়িত হলে তা দেশের কোটি কোটি চালকের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।