অমিত শাহ-এর বাংলা সফরের ধাক্কায় ছিদ্র দেখা দিয়েছে তৃণমূলের নৌকায়। মুখে অস্বীকার করলেও সেই ছিদ্র দিয়ে জল ঢুকে ডুবতে বসেছে তৃণমূলের নৌকা। একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেছেন। এই অবস্থায় আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মমতা কে বাঁচাতে অন্য রাজ্য থেকে ছুটে আসছেন বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতারা।

গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আগেই বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্টের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তেলেঙ্গানার মুখ্যমনত্রী কেসিআর। এবার বিজেপিকে ঠেকাতে জোট বাধতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পওয়ার। সূত্রের খবর, মমতা এবং পওয়ার আগামী বছরের জানুয়ারি কলকাতায় একটি যৌথ সমাবেশ করতে চলেছেন। সেই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন, দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তেলেঙ্গানার মুখ্য়মন্ত্রী কেসিআর-সহ আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি বিরোধী নেতাকে।

শোনা যাচ্ছে, এই সমাবেশের মূল বিষয় হতে পারে কৃষক বিক্ষোভ এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ-এর প্রতিবাদ। কিন্তু, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিষয়টা শুধুই বহিরঙ্গ, এই সমাবেশের আসল উদ্দেশ্য, বাংলায় ও অন্যান্য রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি-কে ঠেকানো। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ু-তে নির্বাচন। অমিত শাহের উপস্থিতিতে গত কয়েকদিনে শুভেন্দু অধিকারী-সহ বেশ কয়েকজন নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় এখন সবচেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে অক্সিজেন দিতেই রাজ্যে ছুটে আসছেন শরদ, স্টালিন, কেজরিওয়ালরা। কলকাতার সমাবেশ সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যেও এই বিরোধীদের যৌথ সমাবেশ দেখা যেতে পারে।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এতদিন এই ধরণের বিরোধী জোটের হোতা হতেন সনিয়া কিংবা রাহুল গান্ধী। এইবার জোটের আয়োজকরা বদলে গিয়েছেন শুধু নয়, এখনও অবধি কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা পর্যন্ত ওঠেনি। গত কয়েক মাসে বিশেষ করে বিহার ভোটে ব্যর্থতার পর বিরোধী জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্ব এমনকী প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জোটের নেতা হিসাবে সনিয়া গান্ধীর বদলে শরদ পওয়ারকে সমর্থন জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটও আসন্ন সমাবেশে মমতা-শরদ'এর মঞ্চে কংগ্রেস-এর না থাকার কারণ হতে পারে।  কৃষক বিক্ষোভের সমর্থনে সমাবে হলে সেই মঞ্চে বাম ও কংগ্রেসের থাকা নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা-কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ক্যাডারের তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় পোস্টে বদলি করে দেওয়া হয়। যার তীব্র বিরোধিতা করেছে মমতা সরকার। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত 'স্বৈরাচারী ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরোধী' বলে, সমালোচনা করেছেন ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মমতাও, তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এখন, প্রশ্ন শুধু একটাই। যে যুক্তিতে অমিত শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, জে পি নাড্ডাদের বহিরাগত বলে থাকে, সেই যুক্তিতেই শরদ পওয়ার, স্টালিন, কেজরিওয়ালরাও বহিরাগত। এই বহিরাগতরা কি পারবেন গেরুয়া ঢেউয়ে মমতার ডুবন্ত তরী রক্ষা করতে? এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও, কলকাতায় বিরোধীদের সমবেশ দেখা গিয়েছিল। সেই ঐক্য কিন্তু বিজেপির জয়যাত্রা থামাতে পারেনি। বিধায়সভার বৈতরণী কি পার করতে পারবে?