রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর কৃষি সম্মান নিধি  প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে তার জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি টাকা যদি সরাসরি রাজ্যসরকারের কাছে আসে তাহলেই প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে বলেছেন কেন্দ্র টাকা তার সরকারের কাছে পাঠাবে। সেই অর্থ রাজ্যসরকার কৃষকদের মধ্যে বন্টন করে দেবে। আর এই নিয়ে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোরাধ্যায়কে। 

এই প্রকল্পটি নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছিল বিজেপি। রাজ্যস্তরের নেতাদের পাশাপাশি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব ছিলেন তালিকায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পটি চালু না করায় রাজ্যের কৃষকরা কেন্দ্রীয় সুবিধে থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন অমিত শাহ।  এই প্রকল্পটি রাজ্যে চালু করার জন্য প্রথম থেকেই গররাজি ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশেষ তিনি শর্তসাপেক্ষে রাজি হয়েছিলেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর  কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরক চিঠিও লিখেছেন।  কিছুটা চাপে পড়েই বিষয়টি প্রচারে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ ২২সেপ্টেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যসরকারের ওয়েবসাইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরই আসরে নামে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। 

বুধবার সকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অমিত মালব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে রাজি রয়েছে। কিন্তু টাকা রাজ্য সরকারে দিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করেছেন। তারপরই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যের না নিয়ে লেখেন, পিসি কী ডায়রেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের কথা শুনেছেন? তিনি আরও বলেন এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি কৃষকদের হাতে যাবে, মাঝখানে কোনও ভাইপো থাকবে না। কোনও কাটমানি থাকবে না। থাকবে না কোনও তৃণমূল কংগ্রস কর্মীরাও। তবে বিজেপি নেতারাও এই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে। অনেকের মতে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইভাবেই টাকা সংগ্রহ করছেন।


প্রধানমন্ত্রীর কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের ব্যয়ভার পুরোপুরি বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু রাজ্যগুলিকে প্রিমিয়ামের জন্য ৪০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। তবেব উত্তর পূর্ব ভারত আর হিমালয়ের তিনটি রাজ্যকে  মাত্র ১০ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করতে হয়। এই প্রকল্পের অধীনে কৃষক অথবা ভাগচাষি কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে ৫০০০ টাকা করে পান। ১৮-৬০ বছর বয়সের কোনও কৃষকের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। এই প্রকল্পে ফলসের বিমা ও প্রিমিয়াম সরকার বহন করে। 


শুধু কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পই নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শর্তসাপেক্ষে ছাড়পত্র দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকেও। কারণ তবে এখানেও তাঁর শর্ত টাকা রাজ্যসরকারের মাধ্যমে বিলি করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের পুরো ব্যয়ভার বহন করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের পাশাপাশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখেছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকে।