ইংরাজীতে একটা কথা আছে 'হাইডিং ইন প্লেন সাইট', বাংলা করলে অনেকটা দাঁড়ায় চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকা। উত্তরাখণ্ডে সম্প্রতি ১৯ বছর পর এক খুনের আসামির ধরা পড়ার ঘটনা একেবারে তাই বলা যেতে পারে। গত ১৯ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। অথচ, সে এতদিন ধরে ভুয়ো পরিচয়ে কাজ করছিল পড়শি রাজ্য উত্তরাখণ্ডের পুলিশ বাহিনীতেই।

গ্রেফতারের পর উত্তরাখণ্ড পুলিশবাহিনীতে কনস্টেবল পদে কর্মরত মুকেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী পন্থনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তার কাহিনির সূত্রপাত ১৯৯৭ সালে। উত্তরপ্রদেশের বেরিলি-তে একটি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে পুলিশের খাতায় নাম উঠেছিল তার। তারপর থেকেই ফেরার ছিল সে।

তবে, ওই অপরাধের চার বছর পর ২০০১ সালেই সে উত্তরাখণ্ড রাজ্য পুলিশে নিয়োগের জন্য আবেদন করে বলে জানিয়েছেন পন্থনগরের এসএইচও অশোক কুমার। আবেদনের সময় মুকেশ তার আসল ঠিকানাটা বদলে দেয়। বদলে নতুন ঠিকানা দেয় উত্তরাখণ্ডের কিচ্চা এলাকার শেহদোড়া গ্রাম। বাহিনীতে সে নিয়োগ-ও পেয়ে যায়। আর তাতেই খুনি মুকেশ উধাও হয়ে গিয়েছিল।

তারপর থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে শেহদোড়া গ্রামের মুকেশ কুমার উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছে। বর্তমানে সে আলমোরায় নিযুক্ত ছিল। ঠিক কীভাবে উত্তরাখণ্ডের কনস্টেবল মুকেশের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বেরিলির খুনি মুকেশ-কে মেলানো গেল তা বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। এসএইচও জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, ভুয়ো ঠিকানা দিয়ে সে পুলিশ বাহিনীতে কীভাবে চাকরি পেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।