Oil Price: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে তেলের দাম বাড়বে ভারতে? কী পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা
Oil Price: ইরান ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে তেলের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। শক্তি নীতি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজার মতে, এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলবে না। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে।

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে অস্থির তেলের বাজার
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে তেলের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তবে শক্তি নীতি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা সোমবার জানিয়েছেন, এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তাঁর মতে, এই সময়ে অশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
স্থিতিশীল হতে সময় নেবে...
তানেজা আশা করছেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। কারণ আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হলেই সম্ভবত কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটবে। ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তানেজা বলেন, "পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে আমার ধারণা, আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে। আমেরিকা ও ইজরায়েল হয়তো বলবে যে তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং এরপর শান্তি বা আলোচনার ডাক দেবে।"
হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
অশোধিত তেলের প্রয়োজনের জন্য হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "তেলের বাজারকে যদি সামগ্রিকভাবে দেখেন, তাহলে বুঝবেন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তেল একটি অত্যন্ত জরুরি পণ্য। আমরা যে অশোধিত তেল কিনি, তার ৬০ শতাংশই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। তাই হরমুজ প্রণালী আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।"
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা
রবিবারই হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলের জাহাজে হামলা চালিয়েছিল ইরান। আর সেই কারণে আপাত বন্ধ এই জলপথ। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে তানেজা বলেন,' তবে আমার মনে হয়, অশোধিত তেলের দাম হয়তো স্বল্প সময়ের জন্য, ধরা যাক আট দিনের জন্য, ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।"
আমেরিকা ও ইজরায়েলের রণনীতিতে আস্থা
তানেজা মনে করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল তাদের সামরিক অভিযানের সময়কাল এবং পরিধি এমনভাবে হিসেব করেছে যাতে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সংকট তৈরি না হয়।
তানেজা বলেন, "আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে আমাদের এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার আছে। আমার ধারণা, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই সামরিক অভিযান কতদিন চলবে, তার ভূ-রাজনৈতিক অঙ্কটা তারা কষে রেখেছে... এই মুহূর্তে তেলের দাম নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই।"
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৮.৫২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় দামের তীব্র বৃদ্ধিকেই ইঙ্গিত করে।
তেলের প্রভাব পড়বে বিমায়
ব্যাঙ্কিং ও বাজার বিশেষজ্ঞ অজয় বাগ্গা ANI-কে জানিয়েছেন, ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত এখন আর প্রচ্ছন্ন নেই, বরং সরাসরি সামরিক সঙ্কেতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। বাগ্গা বলেন, "এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বরং শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা।"
তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-২২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এই গুরুত্বপূর্ণ পথে সাময়িক বাধাও বিমার প্রিমিয়াম, মালবাহী খরচ এবং অশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
তাঁর মতে, বাজারে ইতিমধ্যেই যুদ্ধ-ঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম, ট্যাঙ্কারগুলির পথ পরিবর্তন এবং নৌ-এসকর্টের কার্যকলাপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা পরিবহণ খরচ বাড়িয়েছে।
তেলের দাম ১০০-১১৫ ডলার হতে পারে
তেলের দামের সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে বাগ্গা বলেন, সংঘাত সীমিত থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০-১১৫ ডলারে পৌঁছতে পারে। সামুদ্রিক পরিবহণে বাধা সৃষ্টি হলে দাম ১২০-১৪০ ডলারে যেতে পারে, আর যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ১৫০ ডলার বা তার বেশিও হতে পারে।
ওপেকের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই সরবরাহের বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল।
CPI বাড়তে পারে
তিনি বলেন, "অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা থাকাটা সহায়ক, কিন্তু তা বাধাহীন নয়।"
ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলির জন্য বাগ্গা বলেন, এর প্রভাব সরাসরি পড়বে। তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট জিডিপির প্রায় ০.৪-০.৫ শতাংশ বাড়ে এবং কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) ৩০-৪০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে যায়।
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের পরামর্শ
বাগ্গা বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এখন আর বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়, এটি কাঠামোগত। ২০২৬ সাল থেকে কঠিন ভূ-রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটবে।" তিনি বিনিয়োগকারীদের ১২০ ডলারের তেলের দামের জন্য পোর্টফোলিও পরীক্ষা করতে, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য আনতে, রিয়েল অ্যাসেট রাখতে এবং মুদ্রা হেজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

