ফের অসমে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক যুবকের। আরেক যুবক গুরুতর জখম অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে জোরহাট জেলায়। একটি দুর্ঘটনার পর বিশাল সংখ্যায় স্থানীয় জনতা তাদের বেধড়ক মারধর করে বলে জানা গিয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম দেবাশীষ গগৈ। নোকসারী জেলার মিলগাঁও এলাকার ওই যুবক তাঁর বন্ধু আদিত্য দাস-কে নিয়ে শুক্রবার জোড়হাট জেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে মারিয়ানি এলাকার কাছে গর্ভু পার্বত্য চা বাগানের সামনে তাদের স্কুটিতে স্থানীয় দুই মহিলাকে ধাক্কা দেয়।

হাসপাতালের বিছানা থেকে আদিত্য জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার পরই বিপুলসংখ্যক স্থানীয় লোক তাদের ঘিরে ফেলে। দু-এক কথার পরই তাঁকে ও দেবাশীষকে মারধর করা শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন দেবাশীষের বাবা ও দিদি-ও। কিন্তু তাঁদের শত অনুরোধও শোনেনি উন্মত্ত জনতা। মারধর চলতেই থাকে। এরমধ্যেই নেতিয়ে পড়েন দেবাশীষ। পরে, দেবাশীষের বাবা ও দিদি-ই দুই বন্ধুকে গুরুতর অবস্থায় নিকটবর্তী এক হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শনিবার রাতেই দেবাশীষ মারা যান।

দেবেরাপার পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা তাঁদের একটি 'দুর্ঘটনা' ঘটেছে বলে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা কাউকে দেখতে পাননি। পরে জানতে পারেন ওই দুই যুবকের কথা। জোরহাট জেলা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে। জোড়াহাট জেলার এসপি মৃণাল তালুকদার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।