প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে মেনে নিচ্ছিল না দুই পরিবার। তাই বাড়ির লোকদের বিভ্রান্ত করতে নৃশংস ছক কষেছিল যুগল। অন্য এক যুবতী খুন করে প্রেমিকা সাজানোর চেষ্টা করেছিল প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধের জন্য দু' জনকেই পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হলো।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি সিকনদরাবাদ এলাকায় থেকে কুড়ি বছর বয়সি এক তরুণীর  দেহ উদ্ধার হয়। পুনম নামে ওই তরুণী নয়ডার জরছা এলাকার বাসিন্দা। 

ওই তরুণীকে খুনের অভিযোগে বুলন্দশহরেরই বাসিন্দা কপিল এবং রুবি শর্মা নামে এক যুগলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, কপিল এবং রুবি পরস্পরকে ভালবাসত। কিন্তু দু' জনের পরিবারই তাঁদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। 

এর পরেই টিভি-তে ক্রাইম শো দেখে নৃশংস ছক কষে ওই যুগল। অন্য কোনও তরুণীকে হত্যা করে তাঁর মুখ বিকৃত করে দিয়ে রুবি বলে চালানোর পরিকল্পনা করে দু'জন। সেই অনুযায়ী পুনমকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। খুনের পর তরুণীর দেহ রুবির বাড়ির কাছে একটি গোশালায় ফেলে দেওয়ার ছক কষে দু' জনে। পরিকল্পনা ছিল পুনমের দেহে রুবির পোশাক এবং গয়না পরিয়ে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যাতে ওই তরুণীকেই রুবি বলে ধরে নেয় সবাই। আর সেই সুযোগে প্রেমিকা রুবিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল কপিল। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ জানুয়ারি পুনমকে শপিং-এ নিয়ে যাওয়ার টোপ দিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় কপিল। সেখানেই গাড়ির সিট বেল্ট দিয়ে পুনমকে খুন করে কপিল। এর পর রুবির বাড়ির কাছে সেই গোশালাতে পুনমের দেহ ফেলে রেখে আসে কপিল। 

এরই মধ্যে পুনমের পরিবার পুলিশের কাছে তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করে। তাঁরাই কপিলের কথা জানায় পুলিশকে।  নয়ডার পুলিশ বুলন্দশহরের পুলিশকে সতর্ক করে।  

পুনমের দেহ বিকৃত করার আগেই কপিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করেই পুনমের দেহ উদ্ধার হয়। পরে কপিলের প্রেমিকা রুবিকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।