ভারত থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন মণিপুর রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা করা হল লন্ডনে। ব্রিটেনে রাজধানীতে বসে মণিপুরের রাজার প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা করলেন। তবে এই বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই, এবং এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত বলে জানিয়েছেন মণিপুরের প্রাক্তন রাজা লেইসেম্বা সানাজাওবা।

মঙ্গলবার লন্ডনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে মণিপুরের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়েমবেন বীরেন ও নারেংবাম সমরজিৎ নিজেগদের মণিপুরের রাজার প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে 'মণিপুর স্টেট কাউন্সিল' গঠনের কথা ঘোষণা করেন। তাঁরা নিজেদের যথাক্রমে কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিদেশ বিষয়ক ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। ২০১৯ সালে এই দুইজনকে ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল।

তাদের দাবি ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল মণিপুর। তবে ভারতের সঙ্গে যোগ দেয়নি। ১৯৪৬ সালের ২৭ ডিসেম্বরই ব্রিটিশ রাজ ভারত থেকে মণিপুরকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে সেই আইন লঙ্ঘন করে ভারত মণিপুর রাজ্যকে কব্জা করেছিল। কাজেই স্বাধীন মণিপুর রাষ্ট্রের গঠন হেছিল অনেকদিন আগেই। সেই রাষ্ট্রকেই পুনরুদ্ধার করতে চাইছে তারা। তাঁরা জানিয়েছেন এখন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে তাঁরা স্বাধীন মণিপুর রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য আবেদন জানাবেন। তারপর রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হবেন।

এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজা লেইসেম্বা সানাজাওবা স্বয়ং। যেভাবে তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে তিনি বিস্মিত। জানিয়েছেন কড়া ভাষায় এর নিন্দা করছেন তিনি। সমাজে এতে করে নেতিবাচক প্রভাব বাড়বে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য প্রশাসনও। মুখ্য়মন্ত্রী এন বীরেন সিং জানিয়েছেন, ওই দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন রাষ্ট্রে বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা অভিযোগে মামলা করেছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ শাখা বিষয়টি দেখছে। বিশদ তথ্যাদি পেলে মামলাটি ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি বা এমনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।