লোকসভার নতুন অধিবেশন শুরু হওয়ার পরে একমাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু নামী দামি অনেক সাংসদই এখনও সংসদে তাঁদের প্রথম প্রশ্নটাই করে উঠতে পারেননি। এমন সাংসদদের তালিকাটা বেশ দীর্ঘই। আবার হেমা মালিনীর মতো কোনও কোনও সাংসদ এক কয়েকদিনের মধ্যেই দশটি প্রশ্ন করে ফেলেছেন। 

আরও পড়ুন- সারদার টাকা ফেরাতে চান, ইডি-কে জানালেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নামী যে সাংসদরা এখনও একটিও প্রশ্ন করে উঠতে পারেননি, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দুই অভিনেত্রী সাংসদ মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরত জাহানও। একই সঙ্গে এই তালিকায় রয়েছে পঞ্জাবের গুরদাসপুরের বিজেপি সাংসদ সানি দেওলের নামও। তবে মিমি, নুসরত বা সানিরা না হয় সংসদে নতুন। এমন কী সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব, তাঁর বাবা মুলায়ম সিং যাদব বা রায়বরেলির সাংসদ সোনিয়া গান্ধীও এখনও একটিও প্রশ্ন করেননি লোকসভার চলতি অধিবেশনে। 

কয়েকদিন আগেই ঝাঁটা হাতে সংসদের সামনে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হয়েছিলেন অভিনেত্রী সাংসদ হেমা মালিনী। তিনি কিন্তু গত একমাসে দশটি প্রশ্ন করে ফেলেছেন সংসদে। এছাড়াও রামবিলাস পাসওয়ানের ছেলে এবং লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ চিরাগ পাসওয়ান ছ' টি প্রশ্ন করেছেন। মহিলা সাংসদ রমা দেবীকে উদ্দেশ করে বিতর্কিত মন্তব্য করা সাংসদ আজম খানও ন'টি প্রশ্ন করেছেন সংসদে। সেখানে রাহুল গান্ধী নিজের সাংসদ এলাকা সংক্রান্ত দু'টি প্রশ্ন করেছেন। প্রথম বক্তৃতাতেই সাড়া ফেলে দেওয়া কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রি এখনও পর্যন্ত একটি প্রশ্ন করেছেন। 

এবারের অধিবেশনে এখনও পর্যন্ত মোট ৬,১৭৯টি প্রশ্ন করেছেন সাংসদরা। তার মধ্যে সবথেকে বেশি প্রশ্ন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। এবারের অধিবেশনেই তিনি এখনও পর্যন্ট মোট ১০৯টি প্রশ্ন করেছেন। রেল, কৃষি, কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নানাবিধ বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন বারামতীর সাংসদ। কল্যাণের শিবসেনা সাংসদ শ্রীকান্ত একনাথ শিন্ডে ৮৪টি প্রশ্ন করেছেন। হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন কোয়াসি ৬৮টি প্রশ্ন করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর একমাসের মধ্যেই ৫৩টি প্রশ্ন করে ফেলেছেন। প্রথমবার সাংসদ হওয়া প্রাক্তন ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর এরই মধ্যে ২২টি প্রশ্ন করে ফেলেছেন চলতি অধিবেশনে।  গত ২৬ জুলাই সংসদের ওয়েবসাইটে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।