শনিবার রাতে আচমকা অতি ভারী বর্ষণে হরপা বান এসে ত্রিপুরার বিস্তির্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তর ত্রিপুরা, উনকোটি, ধালাই - এই তিন জেলার কয়েকশ' বাড়ি আপাতত জলের তলায়। হাজারেরও বেশি পরিবার বিপর্যস্ত। এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২২টি দল। ৮টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সাড়ে তিনশ'র বেশি মানুষ।

জানা গিয়েছে ত্রিপুরার উত্তর অংশে শনিবার সারারাত ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর তার ফলেই হঠাৎ ঝুড়ি ও কক্তি নদীর জল বিপদসীমা চাড়িয়ে যায়। জলবন্দী হয়ে পড়েন বিস্তির্ণ এলাকার মানুষ। তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে। ভিন রাজ্য থেকে ৯টি স্পিড বোট ও ৪০টি রেস্কিউ বোট আনা হয়েছে। সেগুলিকেও উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেল, দমকল বাহিনী, জেসলা ও রাজ্য প্রশাসন। স্টেট এমার্জেন্সি সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী উনকোটি জেলায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩৫৮ জন, আর উত্তর ত্রিপুরা জেলায় এই সংখ্যাটা ৩৮১। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ধালাই জেলা। এখানে অন্তত ১০৩৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে।

তবে বন্যায় এখনও অবধি হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য খাদ্য, পাণীয় জল এবং ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকার দাবি করেছে আর বৃষ্টি না হলে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কিন্তু, আরও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে অবস্থাটা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।