অবশেষে মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর তকমা দিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আন্তর্জাতিক মহলে এটা ভারতের অন্যতম বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। 

বহুদিন ধরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে এই আবেদন রাখে ভারত। কিন্তু চিন বার বার বাধা দেয়। কিন্তু এবার সেসব আর ধোপে টেকেনি। আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করা হলো মাসুদ আজহারকে। 

রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন টুইট  করে জানান, ‘‘ছোট থেকে বড় প্রত্যেকে এক হয়েছে। মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তালিকায়। তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।’’

পুলওয়ামা হামলাতেও মাসুদ আজহারের যোগ ছিল। এই হামলার পরেই অন্য়ান্য দেশগুলি ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ভারতের বহুদিনের দাবি ছিল মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করার। পুলওয়ামা হামলার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রত্য়েকে সাহায্যের হাত বাড়ায়, এক হয়ে দাঁড়ায়। ফলে একঘরে হয়ে গিয়ে চিনকেও হাত মেলাতে হয়। আর সেই সব বাধা না থাকায় এবার সহজেই মাসুদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গির তকমা দেওয়া গেল। 

প্রসঙ্গত, পুলওয়ামা হামলায় প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করেছিল এই মাসুদ। অথচ সেই সময়ে সে হাসপাতালে ছিল। এতই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিল সে যে দলীয় বৈঠকে পর্যন্ত যেতে পারেনি সে। কিন্তু তার কথা মতোই সমস্ত কিছু ঘটেছিল। পুলওয়ামা কাণ্ডের কয়েকদিনের মাথায় একটি গুজব ছড়ায় যে মারা গেছে এই কুখ্যাত জঙ্গি। কিন্তু এই খবর যে পুরোটাই ভুয়ো তা আজ পরিষ্কার। 

উল্লেখ্য, 1994 সালে কাশ্মীরে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিল মাসুদ আজহার। তারপরে কাশ্মীরে অনন্তনাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল মাসুদকে। সেই সময়ে সিকিমের প্রাক্তন ডিজি অবিনাশ মহনানি ভারতীয় গোয়েন্দা বিভাগে ছিলেন। মাসুদকে জেরার সময়ে আর এক পুলিশ আধিকারিক তাকে চড় মেরেছিল। সেই এক থাপ্পড়েই ঘাবড়ে গিয়ে সব কথা বলে দিয়েছিল মাসুদ। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী মাসুদ জোর গলায় বলেছিল, আইএস ঠিক তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। সেই মতোই 1999 সালে জঙ্গিরা একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান হাইজ্য়াক করে মাসুদের মুক্তি চায়। অগত্যা সেই সময়ে ভারত মাসুদকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।