রুপলী পর্দা থেকে বাস্তবের মাটি, ড্রইং রুম থেকে পাড়ার মোড়, ঝাঁ-চকচকে চলচ্চিত্র জগত থেকে রাজনীতির তপ্ত ময়দান। বিষয়টা কতটা সহজ বসিরহাটের প্রার্থী নুসরত জাহান-এর কাছে!

নুসরতঃ জীবনে কোনও কাজই সহজ নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাকে সহজ করে নিতে হয়। শেখার ও জানার আছে অনেককিছু। কিন্তু কি বলতো, রূপলী পর্দায় ছবিটা পৌঁচ্ছনোর আগে এই গ্রামবাংলার মাঠে-ঘাটেও শ্যুটিং হয়।

এ.এন. বাংলাঃ প্রথম খবর পেয়ে প্রতিক্রিয়া কী ছিল, জানতে বিষয়টা আগে থেকেই!

নুসরতঃ হঠ্যাৎ ঠিক নয়। আগে একটা আভাস পেয়েছিলাম। তারপর যেদিন জানলাম প্রথম মাথায় এলো বিশাল দায়িত্ব। অনেকটা ভরসা, বিশ্বাস দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) করেছেন আমার প্রতি। তার মান আমি রাখব।

এ.এন. বাংলাঃ বসিরহাটকে প্রার্থীর চোখে প্রথম দেখে কী মনে হল

নুসরতঃ সত্যি বলতে কি বসিরহাটে বিগত পাঁচ বছরে প্রচুর কাজ হয়েছে। জায়গাটা উন্নত হচ্ছে। দিপেন্দু দা (দিপেন্দু বিশ্বাস, বিধায়ক) অনেক কাজ করেছেন এখানে। আরও পরিকল্পনা আছে। আমার কর্তব্য শুধু দাদা এখানে যতটা কাজ করেছে সেই প্রগতিটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

এ.এন. বাংলাঃ তুমি বসিরহাটের মানুষদের নিয়ে কতটা আশাবাদী

নুসরতঃ দেখ বিগত ৩৭ বছরে নারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের আমলে কি কাজ হয়েছে আর পাঁচ বছরে কতটা এগিয়েছে বসিরহাট, তা আমি শুনেছি। যারা দেখেছেন তারা জানেন। দিপেন্দু দা পানীয় জল, হোস্টেল, হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, আরও অনেকদিক থেকে বসিরহাটকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ফলে আলাদা করে আমায় আর দলের হয়ে প্রচার করতে হচ্ছে না। কারণ বসিরহাটের মানুষ দাদাকে পেয়ে দেখেছেন তৃণমূল কাজটা করে।

এ.এন. বাংলাঃ আচ্ছা রাজনীতিতে আশার জন্য কী অভিজ্ঞতার কোনও প্রয়োজন নেই!

নুসরতঃ প্রয়োজন নেই একথা বলব না। অভিনয় জগত থেকে আসার সুবিধে যেটা আমায় মানুষ চেনেন, ভালোবাসেন। তার ফলে অনেকটা সহজ হয় সম্পর্ক গড়তে। আশা করব বসিরহাটের মানুষ আমার প্রতি সে বিশ্বাস রাখবেন।

এ.এন. বাংলাঃ ধর মানুষ সে বিশ্বাস রাখল এবং তুমি জয়ী হলে। মানুষ কতটা সময় তোমাকে পাবে!

নুসরতঃ এটা ঠিক যে আমার অপর একটা জগৎ আছে। তবে এটা নয় যে আমি বসিরহাটে থাকব না, বা আসব না। এ প্রসঙ্গই আসে না। কারণ আমি কাজটা করতে চাই বলেই আজ আমি এ জায়গায়। এখানে একটা অফিস করব। দাদা রয়েছেন এ বিষয় আমায় সব রকমভাবে সাহায্য করছেন। দলের বহু প্রবীণ কর্মীরাও আছেন, তাদেরও সহযোগীতা যথেষ্ট পাচ্ছি। আর আমার রেগুলার ডিউটির মধ্যে পরে এই দায়ভার। আমি আমার সময় ভাগ করে নেব।

এ.এন. বাংলাঃ অভিনয়, রাজনীতি দুদিন পরে সংসার। বিষয়টা কি খুব সহজ হবে!

নুসরতঃ আমার জীবনে কোনো কিছুই সহজভাবে হয়নি, আর হবেও না। যে কোনও বড় কাজ করতে গেলে একটু কষ্ট করতেই হবে। এখন তো সবে শুরু। অনেকটা পথ চলা বাকি। তবে আমি ভিষণভাবে আশাবাদী। মানুষের জন্য কিছু করতে চাওয়াটাই সব নয়, সঠিক পদ বা জায়গাটা পেলে তা অনেক সহজসাধ্য হয়ে যায়। এই সুযোগটাই বা পায় কতজন!

এ.এন. বাংলাঃ তোমার বা তোমাদের (মিমি চত্রবর্তী) নাম ঘোষনার পর সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক ট্রোলিং হচ্ছে, এ বিষয় কি বলবে!

নুসরতঃ অভিনেত্রী হিসেবে এগুলোর জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। তবে কি এবিষয়গুলো আমায় এতোটা ভাবায় না। যার মনে হচ্ছে, সে এগুলো করে আনন্দ পাচ্ছে। যারা ভালোবাসার তারা আমায় আশির্বাদও করছেন, ভালোওবাসছেন।

এ.এন. বাংলাঃ শেষ প্রশ্ন, মহিলাদের কথা মাথায় রেখে কি কিছু পরিকল্পনা করেছ!

নুসরতঃ আমি আগে থেকেই ছোট-খাটো এধরনের কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। নিশ্চই ভাবছি। আমার আগের দিনই এই নিয়ে দিপেন্দু দার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। করার ইচ্ছে আছে অনেক কিছু। বাকিটা ভবিষ্যতে যা হবে তার ওপর নির্ভরশীল।