রবিবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি থেকে 'সাইন অফ' করেছেন। আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের গোটা দিন সাতজন কৃতী নারী এদিন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁদের জীবন কাহিনি ভাগ করে নেবেন নেট দুনিয়ায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইটারেবলেন, এই মহিলারা তাঁদের জীবন ও কর্ম দিয়ে প্রত্যেককে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কারা এই সাত মহিলা? একনজরে চিনে নেওয়া যাক তাঁদের, যাঁরা দখল নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের -

 

রবিবার সকালে প্রথম কৃতী মহিলা হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অধিগ্রহণ করেন চেন্নাই-এর বাসিন্দা স্নেহা মোহনডস। তিনি অলাভজনক সংস্তা 'ফুডব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া'-র প্রতিষ্ঠাতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর টুইটার হ্যান্ডেল ব্যবহার করে মোহনডস তাঁর এই উদ্যোগ সম্পর্কে সকলকে জানান। তিনি জানান, তাঁর মাই তাঁকে গৃহহীনদের খাওয়ানোর অভ্যাস করিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি এই 'ফুটব্যাঙ্ক ইন্ডিয়া'র ধারণা আসে।

স্নেহার পর প্রধানমন্ত্রীর সোশ্য়াল মিডিয়ায় আসেন রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী কর্মী ডাঃ মালবিকা আইয়ার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিকানের বোমা বিস্ফোরণে প্রাণে বেঁচে গেলেও দুই হাতই খোয়ান মালবিকা। কিন্তু, এই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে আটকে তো রাখতেই পারেনি, উপরন্ত তাঁর মতো প্রতিবন্ধকতা থাকা মানুষদের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, মানুষ তাঁর জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও, জীবনকে কীভাবে দেখবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এরপরই আসেন শ্রীনগরের মহিলা শিল্পোদ্যোগী আরিফা জান। রক্ষণশীল সমাজের বাধা টপকে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে ফের জাগিয়ে তুলেছেন তিনি। তিনি জানান, এটি স্থানীয় মহিলাদের ক্ষমতায়নের অন্যতম মাধ্যম হবে বুঝেছিলেন তিনি। মহিলা কারিগরদের দূরবস্থা দেখেই তিনি নামদা কারুশিল্প সংশোধনের কাজ শুরু করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে চতুর্থ প্রাপ্তি ছিলেন 'জল যোদ্ধা' কল্পনা রমেশ। পৃথিবীতে পরিশ্রুত জলের ভান্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। গত বছরই ভয়াবহ জলসঙ্কটে পড়েছিল ভারতের বিস্তৃর্ণ অংশ। আর এই সঙ্কটকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতের জন্য জল সুরক্ষিত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন কল্পনা রমেশ। তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেকে যদি অল্প অল্প করে উদ্যোগ নেয়, তাহলেই সম্মিলিত ভাবে অনেক বড় কাজ হবে।

পাঁচ নম্বর যে কৃতী নারী প্রধানমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবন কাহিনি ভাগ করে নিয়েছেন, তিনি হলেন মহারাষ্ট্রের বিজয়া পওয়ার। তিনি গত দুই দশক ধরে নিজের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার মহিলাকে নিয়ে বানজারা হস্তশিল্পের কাজ করে চলেছেন।
 
আরও দুই জন মহিলা তাদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনকথা ভাগ করে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন।