চলতি মাসে ভারতের আনলকের ছবিটা বদলাচ্ছে না। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিল, গত সেপ্টেম্বরে যে আনলক ৫-এর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তাই বহাল থাকবে আরও একমাস, অর্থাৎ নভেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ কনটেইনমেন্ট জোনের ভিতরে এখনও লকডাউন জারি থাকবে। এখনও পুরোপুরি তালা খুলছে না ভারতের।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা আনলক ৫-এর নির্দেশিকাতে ১৫ অক্টোবর থেকে সিনেমা হলগুলিকে পুনরায় খোলার অনুমতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে তাদের আসন সক্ষমতার ৫০ শতাংশ ব্যবহার করা যাবে। ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের জন্য সুইমিং পুলগুলিও চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সবগুলি ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি ছাড়া হয়েছিল রাজ্যগুলির উপরে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পুনরায় চালু করার বিষয়টিও রাজ্য সরকারগুলির উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেট্রোরেল, শপিং মল, হোটেল, ধর্মীয় স্থান ইত্যাদির মতো বড় জমায়েতের স্থানগুলিকেও কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের বিনিময়ে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক, ক্রীড়া, বিনোদন, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক জমায়েতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল আবদ্ধ জায়গায় হলে সর্বাধিক ক্ষমতার ৫০ শতাংশ নিয়ে সভা করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ জনের সভা করা যাবে। আর খোলা জায়গা হলে সর্বাধিক জমায়েতের কোনও সীমা থাকবে না তবে জায়গাটির সর্বাধিক ক্ষমতার ৫০ শতাংশ ব্যক্তির জমাযেতই করা যাবে। বিহার বিধানসভা এবং অন্যান্য রাজ্যের উপনির্বাচনগুলির ক্ষেত্রেও জনসভা করার ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানতে হবে। কনটেইনমেন্ট জোনের ভিতর যেমন কোনও সমাবেশই করা যাবে না। সেখানে কঠোরভাবে লকডাউন প্রয়োগ করা অব্যাহত থাকবে।

করোনাভাইরাস মহামারিকে রুখতে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর পর্যায়ক্রমে সেই লকডাউনের মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গত ২ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং অন্যান্য দৈনিক কার্যকলাপ ফের চালু করার লক্ষ্যে ভারতে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।