শুক্রবার রাজ্য ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত তিন আইপিএস কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় পদে যোগ দেওয়ার জন্য সমন জারি করা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে লড়াই সুপ্রিম কোর্টে টেনে নিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কেন্দ্রের এই সমনের বিরুদ্ধে আবেদন করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছে। অন্যদিকে এদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাও সাফ জানিয়ে দেন, ওই তিন আইপিএস আধিকারিককে কোনওমতেই ছাড়া হবে না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বঙ্গ-সফরের সময় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার কারণে রাজীব মিশ্র (এডিজি, দক্ষিণবঙ্গ), ভোলানাথ পান্ডে (এসপি, ডায়মন্ড হারবার) এবং প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি (ডিআইজি, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) - এই তিন আইপিএস অফিসার-এর নামে ট্রান্সফার অর্ডার জারি করে, তাদের অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারি পোস্টে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার জানিয়ে দিয়েছে তাঁদের ছাড়া হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একে কেন্দ্রের 'সম্প্রসারণবাদী' পদক্ষেপ বলেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের জন্য রাজ্যের মুখ্য সচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায় এবং ডিজিপি বীরেন্দ্র-কে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল। প্রথমে সেই চিঠির জবাব না দিলেও পরে রাজ্যের আধিকারিকরা ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন। সেইমতো শুক্রবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি।

বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩১২ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্র রাজ্য ক্যাডারের অফিসারদের ডেপুটেশনের জন্য চাইতেই পারে। তবে তাঁদের ছাড়া না ছাড়াটা রাজ্যের হাতেই রয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির উপর হামলার অভিযোগের প্রসঙ্গে রাজ্যের কর্মকর্তারা বলেছেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাই রাখা হয়েছিল কনভয়ে। আগামী দিনে কলকাতা কিংবা রাজ্যের কোন প্রান্তে ভিআইপি অর্থাৎ কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এলে, তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট খেয়াল রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।