গত মার্চ মাসের ২৪ তারিখ মধ্যরাত থেকে দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। যার ফলে ভারতের নানা প্রান্তে আটকে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকের দল। লকডাউন চলার ফলে আজ এরাল কর্মহীন, তাই সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো ফিরে যেতে চাইছেন নিজেদের গ্রামে। গত পয়লা মে থেকে রেল তাঁদের জন্য শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালালেও অনেকেই সেই সুবিধা নিতে পারেননি। ফলে নিদের দুই পাকে সম্বল করেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগিয়েছেন তাঁরা। আট থেকে আশি সবাই রয়েছেন এই দলে। কোথাও গর্ভবতী মহিলা হাঁটছেন মাইলের পর মাই, আবার কোছাও কোলে সন্তান নিয়ে বাড়ি ফেরর জন্য দীর্ঘ পথ চলছেন অভুক্ত মা। এরকমি মহারাষ্ট্রের নাসিকে কাজ করতে গিয়েছিলেন এক মহিলা। লকডাউনের ফলে এখন কাজ বন্ধ। তাই ৯ মাসের অন্তস্বত্ত্বা অবস্থাতেই মধ্যপ্রদেশের সাতনায় নিজের বাড়ি ফিরতে হাঁটা শুরু করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে চলার পর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। মাঝপথেই এক সুস্থ শিশুর জন্মদেন তিনি। সব চেয়ে অবাক করা বিষয়ে প্রসবের পর মাত্র ২ ঘণ্টা বিশ্রম নেন তিনি, তারপর কোলে সদ্যজাতেক নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নিজের গ্রামে পৌঁছন ওই মহিলা। 

জীবনভর বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন কর্মীরা, করোনা বিশ্বে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ট্যুইটারের

দেশে কপর্দক শূন্য হতে চলেছে এক তৃতীয়াংশ পরিবার, চতুর্থ দফার লকডাউন শুরুর আগেই আশঙ্কার মেঘ

করোনার জেরে বন্ধ বিমান চলাচল, দেউলিয়া ঘোষণা করা হল বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন এয়ারলাইন্সকে

সংবাদ সংস্থা এনএনআই জানিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে সাতনায় নিজের গ্রামে ফিরছিলেন ওই গর্ভবতী মহিলা। রাস্তাতেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি। মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, বাচ্চার জন্মের ২ ঘণ্টা পর ফের বাড়ির পথে হাঁটা লাগান তারা। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ চলে শেষপর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছন তাঁরা। 

 

 

গত কয়েকদিনেএই ধরণের বহু ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েকদিন আগেই এক মহিলা শ্রমক চণ্ডীগড় থেকে মধ্যপ্রদেশে পায়ে হেঁটে ফিরছিলেন। প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ চলার পর রাস্তাতেই তিনি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের এক ঘণ্টা পরেই ফের চলতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ২৭০ কিমি পথ চলার পর আলিগড় পৌঁছন। সেখানে সামান্য কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে মধ্যপ্রদেশে নিজের গ্রামে পৌঁছতে আবার ১১০০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে শুরু করেন।