গোটা বিশ্বে মহামারী থেকে অতিমারীর আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বর্তমানে গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৫৫। মারণ এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৯৩জন। ২০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। ফলে অধিকাংশ দেশকেই লকডাউনের পথে হাঁটতে হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন কবে মিলবে তা এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এমনকি আদৌ তা পাওয়া যাবে কিনা এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে স্বয়ং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এতদিন নিজেদের কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দিয়েছিল বিখ্যাত মাইক্রোব্লগিং সাইট ট্যুইটার। এবার এক ঐতিহাসির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল এই সংস্থা। জীবনভর বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন কর্মীরা, জানিয়ে দিলেন সংস্থার  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসি।

 

করোনা সংক্রমণ ক্রমে বাড়তে থাকায় গত মার্চ থেকেই ট্যুইটার নিজেদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল। ট্যুইটারের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর ট্যুইটার প্রথম কোম্পানি যারা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়। তবে ট্যুইটার  অফিসে গিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্তে এখনই ফিরে যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে ট্যুইটারের যাকে প্রয়োজন তাঁকে ডেকে নিয়ে কাজ পরিচালনা করবে। এছাড়া কর্মীরা যতদিন চাইবেন ততদিন বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। এমন ঘোষণা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশে কপর্দক শূন্য হতে চলেছে এক তৃতীয়াংশ পরিবার, চতুর্থ দফার লকডাউন শুরুর আগেই আশঙ্কার মেঘ

করোনার জেরে বন্ধ বিমান চলাচল, দেউলিয়া ঘোষণা করা হল বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন এয়ারলাইন্সকে

১৭ মের পর কী চান রাজধানীর মানুষ, দিল্লিবাসীর কোর্টেই এবার বল ঠেলে দিলেন কেজরি

সিইও জ্যাক ডরসি বলেছেন, সেপ্টেম্বরের আগে টুইটার তার অফিস খুলবে না। এ বছর অফিস খুললেও সেখানে মানব সম্পদ দিয়ে কোনও কাজ হবে না। ২০২১ সালের জন্য কি পরিকল্পনা নেওয়া হবে তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ডরসি জানান, ট্যুইটার বাড়ি থেকে কাজ করার উৎসাহ দিচ্ছে। এতে করে কাজের বিকেন্দ্রীকরণ হবে, কর্মীরা যে কোন জায়গা থেকে দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে।

সান ফ্রান্সিসকোর সংস্থাটি গত ২ মার্চ থেকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার উৎসাহ দিচ্ছে। ১১ মার্চ থেকে বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম  বাধ্যতামূলক করেছে ট্যুইটার। এমনকি বাড়িতে অফিস বসানোর জন্য যে খরচ লাগবে সেগুলোও বহন করার ঘোষণা করেছে  প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর কর্মীদের জন্য একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছে অ্যাপল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, গুগলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলিও। গুগল ও ফেসবুক কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সময় ২০২১ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অ্যামাজনও এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িতে বসেই কর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।