গত পয়লা মে থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালাচ্ছে ভারতীয় রেল। অনেকদিন অপেক্ষা করার পর তেমনই এক শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন বিহারের সীতামারির বাসিন্দা এক মহিলা শ্রমিক। ঝুঁকি নিয়েই  বাড়ি ফেরার তাগিদে অন্তস্বত্ত্বা অবস্থাতেই গুজরাতের সুরাট থেকে  ট্রেনে উঠে পড়েন তিনি। ভেবেছিলেন  বাড়ি পৌঁছেই  সন্তানের জন্ম দেবেন তিনি। শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনেই সন্তানের জন্ম দিলেন ওই মহিলা।

চলন্ত ট্রেনেই প্রসব যন্ত্রনা ওঠে ওই মহিলা শ্রমিকের। এরপর সহযাত্রীদের সাহায্যেই তিনি নবজাতকের জন্ম দেন । দানাপুর স্টেশনে ট্রেন থাকলে রেলের চিকিৎসক এসে সজ্যোজাতর নাড়ি কাটেন। চিকিৎসক জানান, মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ রয়েছে।

 

 

ত্রিপুরা থেকে বিহারে ফেরার পথে সোমবার রাতে একই রকম ভাবে  শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন আরেক পরিযায়ী মা। কাটিহারে স্টেশনের কাছে নবজাতকের জন্ম হয়।  

গত মার্চ মাসের ২৪ তারিখ মধ্যরাত থেকে দেশে লকডাউন শুরু হয়। তারফলে বাড়ি থেকে অনেক দূরে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা সেখানেই আটকে পড়েন। এদিকে লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় তাঁদের রুজি রোজগারও বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় বাড়ি ফিরতে মরিয়া পরিযায়ীদের দল পায়ে হেঁটেই নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। সেই দলে ছিলেন বহু অন্তস্বত্ত্বা মহিলাও। এমনই ৯ মাসের এক অন্তস্বত্ত্বা মহিলা চলিত মাসেই মহারাষ্ট্রের নাসিক থেরে মধ্যপ্রদেশের সাতনায় নিজের বাড়ি ফিরতে হাঁটতে শুরু করেন। মাঝপথেই সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তারপর কোলে সদ্যজাতকে নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গ্রামে পৌঁছন তিনি।

চণ্ডীগড় থেকে মধ্যপ্রদেশে পায়ে হেঁটে ফেরার সময় এক মহিলা শ্রমিকও ১৮০ কিলোমিটার পর চলার পর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের এর ঘণ্টা পরেই ফের চলতে শুরু করেন তিনি।