Global South: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ভারত ও ব্রাজিল একসঙ্গে কাজ করলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার জোর দিয়ে বলেছেন যে ভারত এবং ব্রাজিল একসঙ্গে এলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর (Global South) আওয়াজ আরও শক্তিশালী হয়। তিনি বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের ডাক দেন এবং এই লক্ষ্যে ভারত ও ব্রাজিলের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারের কথা জানান।
রাজধানী দিল্লিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত ও ব্রাজিলের পার্টনারশিপ বরাবরই শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা 'গ্লোবাল সাউথ'-এর অগ্রাধিকার এবং আকাঙ্ক্ষাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকব। যখন ভারত ও ব্রাজিল একসঙ্গে কাজ করে, তখন 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্ত সমস্যার সমাধান আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সন্ত্রাসবাদ এবং তার সমর্থকরা যে গোটা মানবতার শত্রু, এই বিষয়ে ভারত ও ব্রাজিল একমত। আমরা এটাও মানি যে আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার জরুরি। আমরা এই লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।"
তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, প্রিসিশন ফার্মিং এবং বায়ো-ফার্টিলাইজারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের খাদ্য সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে।
তিনি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থ (rare earths) নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তা একটি স্থিতিশীল সাপ্লাই চেন তৈরির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। এটা পারস্পরিক বিশ্বাস এবং কৌশলগত বোঝাপড়ার এক দারুণ উদাহরণ। আমরা এই উইন-উইন পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, "স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পেও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ব্রাজিলকে ভারত থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কাজ করব।" তিনি আরও জানান যে দুই নেতার মধ্যে আলোচনায় সব ক্ষেত্রে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কথা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য দুই দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি 'গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট'-এ অংশ নেওয়ার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-ব্রাজিল সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন।
এর আগে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা প্রতিনিধি স্তরের বৈঠকেও অংশ নেন।
বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা, বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি এবং বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের চত্বরে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভাকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয়। তিনি ভারত সফরে এসেছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে স্বাগত জানান।
তিনি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রাজিল সফরের পর লুলা ভারতে এলেন। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই ছিল প্রথম ব্রাজিল সফর।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলির সিইও-দের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে এসেছেন। এই সিইও-রা একটি বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
