ফ্রান্সের এভিয়ানে ৫২তম জি৭ সামিটের আউটরিচ সেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরিতে 'ভরসা'র ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার সম্পর্কটা আর পুরোনো 'দাতা-গ্রহীতা' মডেলে চললে হবে না, বরং তা হওয়া উচিত সংহতি ও সাম্যের ভিত্তিতে।

ফ্রান্সের এভিয়ানে বসেছে ৫২তম জি৭ সামিট। মঙ্গলবার এই সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে 'ভরসা'র ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছে, 'নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্গঠন' থিমের এই আউটরিচ সেশনে প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্রমবর্ধমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিদেশ মন্ত্রকের পোস্টে বলা হয়েছে, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জি৭ সামিটের আউটরিচ সেশনে অংশ নেন। তিনি আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপ গড়ার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে, ভরসার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।"

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার সম্পর্কটা আর পুরোনো 'দাতা-গ্রহীতা' মডেলে চললে হবে না। বরং এই সম্পর্ক হওয়া উচিত সংহতি এবং সাম্যের ভিত্তিতে।

বিদেশ মন্ত্রকের মতে, মোদী ভারতের 'মানবতাই প্রথম' নীতির কথা তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের নেতৃত্বে চালু হওয়া বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের কথাও বলেন। যেমন - ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স, মিশন লাইফ এবং 'এক পেড় মা কে নাম' প্রচার।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, "প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন যে ভারত সবসময় 'মানবতাই প্রথম' নীতি অনুসরণ করে চলেছে, যা ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স, মিশন লাইফ এবং এক পেড় মা কে নাম-এর মতো উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি 'বসুধৈব কুটুম্বকম' অর্থাৎ 'গোটা বিশ্বই এক পরিবার' দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি আবারও জানান, বিশ্বস্তরে স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতিকে সমর্থন করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিশেষ আমন্ত্রণে মঙ্গলবারই জি৭ সামিটে যোগ দিতে এভিয়ানে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদী। উল্লেখ্য, ভারত এই নিয়ে ১৩ বার জি৭ সামিটে অংশীদার দেশ হিসেবে যোগ দিল। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর জন্য এটা ছিল টানা সপ্তমবার।

সেশনের আগে, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ঐতিহ্যবাহী 'ফ্যামিলি ফটোগ্রাফ' পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হয়। সামিট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, মোদী এবং ট্রাম্প একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছেন এবং ট্রাম্প স্নেহের সঙ্গে মোদীর বাহুতে চাপড় মারছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর এই প্রথম দুই নেতার মুখোমুখি সাক্ষাৎ হল। শুধু তাই নয়, জি৭ আউটরিচ সেশনেও দুই রাষ্ট্রনেতাকে পাশাপাশি বসতে দেখা যায়।

এদিন সামিটের ভেন্যুতে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এরপর জি৭ সদস্য দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তিনি 'ফ্যামিলি ফটোগ্রাফ'-এ অংশ নেন। এই ছবিতে মোদীর সঙ্গে ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

এই সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা।

এছাড়াও, আগামী ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা আছে। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, এই বৈঠকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।