Monsoon 2026: গত ৪ জুন দেশে বর্ষা প্রবেশের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালি মেজাজ স্পষ্ট। কোথাও অতিবৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে এলাকা, আবার কোথাও বৃষ্টির অভাবে দেখা দিয়েছে।দেশে স্বাভাবিক ৫২৭ মিলিমিটার বৃষ্টির জায়গায় হয়েছে ৪৬৬ মিলিমিটার।

Monsoon 2026: গত ৪ জুন দেশে বর্ষা প্রবেশের পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালি মেজাজ স্পষ্ট। কোথাও অতিবৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে এলাকা, আবার কোথাও বৃষ্টির অভাবে দেখা দিয়েছে তীব্র ঘাটতি। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)-এর ৪ জুন থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যানে জানা গেছে, এই সময়কালে দেশে স্বাভাবিক ৫২৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টির জায়গায় হয়েছে ৪৬৫.৯ মিলিমিটার। অর্থাৎ, সর্বভারতীয় স্তরে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কিন্তু সব রাজ্যের প্রকৃত ছবি তুলে ধরছে না। কারণ, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কোন রাজ্য সবচেয়ে শুকনো, কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি

দেশের 'সবচেয়ে ভেজা রাজ্য' হিসেবে পরিচিত মেঘালয় এই মরসুমে মারাত্মক বৃষ্টির ঘাটতির মুখে। সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৬ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। যেখানে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ নিয়মে ১,৭৩৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে মেঘালয়ে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৭৬৩.১ মিলিমিটার। এছাড়া অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুরে ঘাটতি ৩৬ শতাংশ। বিহারেও ঘাটতির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে পঞ্জাব ও অন্ধ্রপ্রদেশে বৃষ্টির ঘাটতি ৩৫ শতাংশ। পর্যটন রাজ্য গোয়াতেও ৩৫ শতাংশ কম বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি কোথায়

বিপরীত ছবিতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ওড়িশা। এই মরসুমে ওড়িশা স্বাভাবিকের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি পেয়ে দেশের সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত বৃষ্টির রাজ্য হয়ে উঠেছে। যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৬৬৮.৭ মিলিমিটার, সেখানে ওড়িশায় হয়েছে ৮৫৭.৮ মিলিমিটার। পরপর নিম্নচাপের সৃষ্টি হওয়ায় দফায় দফায় ভারী বর্ষণে ভিজেছে রাজ্যটি। গত ৮ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন উত্তর ওড়িশায় একটি নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়, যা ক্রমশ পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ওড়িশাজুড়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প ও টানা বৃষ্টি নিয়ে আসে।

কেন এই খামখেয়ালি বর্ষা

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার বৃষ্টি কখনোই গোটা মরসুমজুড়ে সমানভাবে বন্টিত হয় না। 'মনসুন ট্রাফ' বা বর্ষার অক্ষরেখার অবস্থান পরিবর্তন এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করে বৃষ্টির গতিপ্রকৃতি। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ হলেও অন্য অঞ্চল শুকনো থেকে যায়। সম্প্রতি দিল্লি-এনসিআর সহ একাধিক অঞ্চলে বর্ষার নতুন স্পেল শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবেই এই বৃষ্টি। এ ছাড়া আগস্টের ১২ তারিখ নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যা মধ্য ও পূর্ব ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াবে।

ঘাটতি কি মিটে যাওয়া সম্ভব

৪ জুন থেকে শুরু হলেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। ফলে ১০ আগস্টের পরেও হাতে প্রায় সাত সপ্তাহ সময় বাকি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলিতে মধ্য, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জোর বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে জাতীয় স্তরের ১২ শতাংশ ঘাটতি মেটাতে কেবল কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ যথেষ্ট নয়, তার জন্য প্রয়োজন একটানা ও সুষম বৃষ্টিপাত। তাছাড়া, ওড়িশার মতো উদ্বৃত্ত অঞ্চলের অতিবৃষ্টি কখনোই মেঘালয় বা বিহারের খরা পরিস্থিতি ভরাট করতে পারবে না। আপাতত দেশের বর্ষা ১২ শতাংশ পিছিয়ে থাকলেও, আগস্টের বাকি দিন ও পুরো সেপ্টেম্বর মাসটি এখনও হাতে রয়েছে। ফলে মরসুমের চূড়ান্ত রিপোর্ট কার্ড লেখা এখনও অনেকটা বাকি।