ভারত কারও বাপের জায়গির নয়। পঞ্চাশ বছরের ওপরে যারা এদেশে থাকল তাঁদের কৈফয়ত দিতে হবে ভারতে থাকতে! কাকে কৈফয়ত, যারা নিজেদের গ্র্যাজুয়েশানের সার্টিফিকেটই দিতে পারে না। ঠিক এই ভাষাতেই আগুন ছুটিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তার পরে ১২ ঘণ্টাও পার হয়নি। আরও লক্ষাধিক নাম বাদ গেল অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে। 

গত বছর জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে  নাম ছিল এমন ১০২৪৬২ জনের নাম নয়া নাগরিকপঞ্জির খসড়াতে নেই।  প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রথম নাগরিক পঞ্জির খসড়া প্রকাশিত হয়। সেখানে বৈধ নাগরিকদের তালিকা ছবি ও ঠিকানা-সহ প্রকাশিত হয়। সেখানে ছিল এই ব্যক্তিদের নাম। অসম সরকারের বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, নাগরিকত্ব নিয়মের ৫ নং ধারা মেনে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। 

১৯৭১ এর ২৪ আগস্টের পর থেকে বসবাসকারী দেড় কোটি মানুষের ভবিষ্যতকে কার্যত অনিশ্চিত করে দিয়েছে নাগরিকপঞ্জির বিধি। কোথায় ঠাঁই হবে তাঁদের, কী অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্যে, কেউ জানে না। অসম সরকার ৪৬ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করেছে ডিটেনশান ক্যাম্প। সেখানে বন্দিদের মতো দিন কাটাচ্ছেন বহু মানুষ। অসম সরকার সূত্রে ডি ভোটার হিসেবে চিহ্নিতই করা হয়েছিল ১২৫৩৩৩ জনকে। এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হল। মহুয়া মৈত্র তাঁদের সকলের হয়েই মুখ খুলেছিলেন গতকাল লোকসভায়। ১২ ঘণ্টায় বোঝা গেল তাঁর কথার তাৎপর্য। আপাতত অপেক্ষা ৩১ তারিখ পর্যন্ত। তার পরেই জানা যাবে আরও কত মানুষকে এই পঞ্জি থেকে বাদ দিচ্ছে অসম সরকার।