নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ INS বিরাটকে ‘ভেঙে’ ফেলা হচ্ছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে ভারতের এই রণতরী ৩০ বছর নৌসেনার সঙ্গে থেকে কাজ করেছে গর্বের যুদ্ধজাহাজকে বাঁচাতে এবার শিল্পপতিদের কাছে অনুরোধ সাংসদের

প্রায় ৬১ বছর আগে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল রণতরী INS বিরাট। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এটিই ছিল ভারতীয় নৌসেনার সবচেয়ে গর্বের যুদ্ধজাহাজ। টানা ৩০ বছর ভারতীয় নৌসেনার সঙ্গে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে অবসর নেয়। এহেন নৌসেনার গর্বের রণতরী INS বিরাট-কে কিনতে আগ্রহ দেখাল না কেউই। গত বছরের শেষে INS বিরাটের জন্য নিলামের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় কেউ অংশ না নেওয়ায় অবিক্রিত থেকে যায় দেশের গর্বের রণতরী INS বিরাট।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

 শেষ পর্যন্ত তাই ভারতীয় নৌবাহিনীর গর্বের এই রণতরীকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯ শে সেপ্টেম্বর অর্থাৎ এদিন এটিকে গুজরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানকার ভাওয়ানগর জেলার আলাং সাগরের তীরে ভাঙা হবে রণতরীটিকে । INS বিরাটকে বিশেষ জাহাজের মাধ্যমে গুজরাতে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Scroll to load tweet…

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ জাহাজটিকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর। রিলায়েন্স, টাটা, আদানি, উইপ্রো, মাহিন্দ্রা, কোটাকের মত দেশের বড়বড় শিল্পপতিতের কাছে দেশের গর্বের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানালেন সাংসদ।

Scroll to load tweet…

 এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত ব্রিটেনে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় INS বিরাটকে। সি হ্যারিয়ারের মতো যুদ্ধবিমান নিয়ে আরব সাগরের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কার্গিল যুদ্ধের সময়, এই যুদ্ধ জাহাজটি শত্রুদের দিকে নজর রাখার জন্য একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল, যাতে পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে নৌবহর বের না হয়। ২০১৭ সালের মার্চে এই যুদ্ধজাহাজটিকে নৌবাহিনী থেকে অবসর দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এটিকে ভাঙার জন্য একটি দরপত্র দেওয়া হয়েছিল। তাতে, ভাওয়ানগরের শ্রী রাম গ্রুপ ৩৮.২৪ কোটি টাকার দর হাকে, যা অনুমোদিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী এই সংস্থাটি INS বিরাটকে। ভাঙার কাজটি পেয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী INS বিরাটের থেকে যত লোহা পাওয়া যাবে তার মধ্যে ১০ শতাংশ লোহা দেশের ইস্পাত সংস্থাগুলিকে কম দামে সরবরাহ করতে হবে।