প্রবল ঝড়ে আটকে পড়া ৪১০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করল নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ও বিমান। মাঝ সমুদ্রে ওই ৪১০ জন যাত্রীকে নিয়ে আটকে পড়েছিল ২টি নৌকা। প্রত্যেক যাত্রীর প্রাণ সংশয় দেখা দেয়। কারণ তখন সাইক্লোন তৌকতাই তান্ডব চালাচ্ছে সমুদ্রে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ। এরই সঙ্গে অপারেশনে নামে নৌবাহিনীর বিমান। 

বার্জ পি৩০৫ থেকে উদ্ধার করার বার্তা পায় নৌসেনা। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে ২৭৩ জন নৌকায় আটকে রয়েছে। পরে মোট লোকসংখ্যা জানা যায়। ৪১০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে নৌসেনা। নৌসেনার আইএনএস কোচি তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এরই সঙ্গে পাঠানো হয় আইএনএস তলওয়ারকে। উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে এই দুই যুদ্ধজাহাজ। 

সাইক্লোন তৌকতাইয়ের ধাক্কায় প্রাণ সংশয় হয় ওই ৪১০ জনের। আইএনএস কলকাতাও বিপদবার্তা পেয়ে বার্জ পি৩০৫-এর দিকে রওনা দেয়। ওই দুটি নৌকা মুম্বই ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। 

এদিকে, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ঘূর্ণীঝড় তৌকতাই অত্যন্ত মারাত্মক সাইক্লোন। স্থলভাগের দিকে এটি যত এগিয়ে আসছে ততই শক্তি বাড়াচ্ছে। রবিবা সন্ধ্যে একটি গোয়া উপকূল সংলগ্ন এলাকা পার করেছে। ১৭ মে অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যায় এটি গুজরাট উপকূলে পৌঁছাবে। পরের দিন অর্থাৎ ১৮ মে ( মঙ্গলবার ) এটি ভোরের দিকে ভাওয়ানগর জেলার পোরবন্দরে ও মহুয়ার মধ্যে আছড়তে পড়তে পারে। এই সাইক্লোনের প্রভাবে ইতিমধ্যেই সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। 

ঘূর্ণী ঝড়ের কারণে এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচুর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় উপকূল সংলগ্ন বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

মুম্বইয়ের এক প্রশাসনিক আধিকর্তা জানিয়েছেন, উপকূলবর্তী একটি কোভিড কেয়ার সেন্টার থেকে ইতিমধ্যেই ৫৮০ জন করোনা আক্রান্তকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘূর্ণঝড় এই এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে বলেও মনে করা হয়েছে। প্রবলবেগে এই ঘূর্ণীঝড় এগিয়ে যাচ্ছে গুজরাত উপকূলের দিকে। তারই জেরে এখন থেকেই কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটাকসব বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল ঝড় বৃষ্টি।